অর্থায়নের কার্যাবলি (Functions of Finance)
(ক) আর্থিক পরিকল্পনা : অর্থায়নের প্রথম কাজ হলো আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে অর্থের প্রয়োজনীয়তার যে পরিকল্পনা করতে হয় তাকে আর্থিক পরিকল্পনা বলে। আর্থিক পরিকল্পনার সময় অর্থের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ, সময় ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
(খ) উৎস শনাক্তকরণ : আর্থিক পরিকল্পনা করার পর অর্থায়নের অন্যতম কাজ ওই প্রয়োজনীয় অর্থ কোন কোন উৎস থেকে পাওয়া যেতে পারে তা চিহ্নিতকরণ। এটা হতে পারে কোনো ব্যক্তি, বন্ধুবান্ধব বা কোনো আত্মীয়স্বজন, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বা অন্য কোনো বাহ্যিক কোনো উৎস থেকে।
(গ) তহবিল সংগ্রহ : শনাক্তকৃত উৎস হতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা অর্থায়নের তৃতীয় কাজ। তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, শর্ত ও সময় বিবেচনা করতে হয়। এই সব নিয়ন-কানুন ও শর্ত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অর্থ এক বা একাধিক উৎস হতে সংগ্রহ করা অর্থায়নের অন্যতম কাজ।
(ঘ) মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত : কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কোম্পানির মুনাফা এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে প্রভাবিত করে। মূলধন বাজেটিং-এ যেহেতু কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি সম্পত্তি জড়িত, যাতে বিরাট অংকের আর্থিক বিনিয়োগ সম্পৃক্ত, সেহেতু এর তাৎপর্য অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশি। বস্তুত মূলধন বিনিয়োগের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর কোম্পানির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নির্ভরশীল। এই সিদ্ধান্তে লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে তহবিলের দক্ষবণ্টন, তথা সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। একটি কোম্পানির সম্পদ ও আকার প্রবৃদ্ধি, তথা মালিকের সম্পদ বৃদ্ধি বহুলাংশে নির্ভর করে মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্তের ওপর। এ জন্যই এ প্রকল্প নির্বাচনকালে আর্থিক ব্যবস্থাপককে সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
(ঙ) স্বামেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা : স্বল্পমেয়াদি সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঠিক প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত ১ বছর বা তার কম সময়ের বিনিয়োগকে স্বল্পমেয়াদি বা চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনা বলে। বেশি অর্থ বিনিয়োগ করলে তারল্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে, অনুরূপভাবে কম অর্থ বিনিয়োগ করলে মুনাফা কমে যেতে পারে। এ জন্য লভ্যাংশ ক্ষমতা এবং তারল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগ করা উচিত।
(চ) তহবিল বণ্টন : ভবিষ্যতে সর্বাধিক মুনাফা পাওয়ার মতো বিভিন্ন প্রকল্পে সংগৃহীত তহবিলের বণ্টন করাও অর্থায়নের কাজ। এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রকল্পসমূহে খরচ ও আয় বিশ্লেষণ করতে হয়। তাই এ ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান কাজ সেইসব প্রকল্প চিহ্নিতকরণ যে সব প্রকল্পে আয়, ব্যয় অপেক্ষা বেশি এবং দ্বিতীয় কাজ এই প্রকল্পগুলো হতে সর্বাধিক মুনাফা প্রদানকারী প্রকল্প বেছে নেওয়া এবং সেখানে বিনিয়োগ করা।
(ছ) তহবিল সংরক্ষণ : তহবিল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করতে হয়। এমন কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত নয়; যাতে তহবিল খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
(জ) মুনাফা বণ্টন : বিনিয়োগকৃত অর্থ হতে প্রাপ্ত মুনাফা পুনঃব্যবহার ও ভোগের মধ্যে সমন্বয়সাধন করাও অর্থায়নের অন্যতম কাজ। অর্থাৎ অর্জিত মুনাফার কত অংশ ব্যবসায়ে পুনঃবিনিয়োগের জন্য রেখে দেওয়া হবে এবং কত অংশ মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন করা হবে সে ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ও তা বাস্তবায়ন করা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন