পোস্টগুলি

মূলধন বাজেটিং-এর সীমাবদ্ধতা (Limitations of Capital Budgeting)

ছবি
যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধন বাজেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা কোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা মূলধন বাজেটিং-এর ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। তথাপি, মূলধন বাজেটিং এর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকার দরুন অনেক সময় অর্থিক ব্যবস্থাপক সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হন। নিচে মূলধন বাজেটিং-এর সীমাবদ্ধতাসমূহ আলোচনা করা হলো- ১. পর্যন্ত তথ্যের অভাব : মূলধন বাজেটিং-এ বিকল্পসমূহ তথ্য ও উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হয়। এই সকল তথ্য ও উপাত্ত সবসময় পর্যাপ্ত পরিমাণে সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। ফলে আর্থিক ব্যবস্থাপককে অনেক সময় অনুমান ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্প নির্বাচন করতে হয়। ২.  তথ্যের   নির্ভরযোগ্যতার অভাব  : অনেক সময় প্রকল্পসমূহের জন্য সংগৃহীত তথ্য নির্ভরযোগ্য হয় না। ফলে প্রকল্প মূল্যায়নও সঠিক ও নির্ভুল হয় না। ৩. ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মাত্রা নির্ণয়ের সমস্যা : ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে প্রতিটি প্রকল্পের সাথে যে ঝুঁকি জড়িত থাকে তার মাত্রা যথাযথ ও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা কঠিন। ৪.  সংখ্যাগত পরিমাপের সমস্যা : কোনো প্রকল্পের সব ধরনের ব্যয় ও প্রাপ্তিকে সবসম...

মূলধন বাজেটিং-এর উদ্দেশ্য (Objectives of Capital Budgeting)

ছবি
প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যত আন্তপ্রবাহের আশায় মূলধন জাতীয় সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে থাকে। মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন বিকল্প বিনিয়োগ প্রস্তাব হতে সর্বোত্তম বিকল্পটি নির্বাচনে সহায়তা করে। নিচে মূলধন বাজেটিং এর উদ্দেশ্যগুলো আলোচনা করা হলো- ১. প্রকল্প মূল্যায়ন : বিভিন্ন প্রকল্পের যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়। মূলধন বাজেটিং এর মাধ্যমে প্রকল্প পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন সম্ভব।  ২. প্রকল্প নির্বাচন  : দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করে সর্বোত্তম প্রকল্পটি নির্বাচন করা মূলধন বাজেটিং-এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ৩. ঝুঁকি পরিমাপ  : বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পের মধ্যে পারস্পরিক ঝুঁকির পরিমাণ তুলনা করে সর্বোত্তম প্রকল্পে বিনিয়োগ সহায়তা করে। ৪. তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা  : মূলধন বাজেটিং-এর বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পসমূহ বিচার-বিশ্লেষণ করে সর্বোত্তম ও লাভজনক প্রকল্প নির্বাচন ও তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা সহজ হয়। ৫. স্থায়ী সম্পদের স্থায়িত্ব :  বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী সম্পদের কার্যকাল পরিমাপ করতে মূলধন বাজেটিং সহায়ত...

মূলধন বাজেটিং-এর সংজ্ঞা (Definition of Capital Budgeting)

ছবি
একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি মূলধন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং বলে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মুনাফার প্রত্যাশায় বিভিন্ন বিকল্প যাচাই-বাছাই করে সর্বোত্তম বিকল্পটি নির্বাচন করা হয়। যখন কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয়, নতুন প্রকল্প গ্রহণ বা পুরাতন সম্পত্তি প্রতিস্থাপন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। এরূপ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য প্রকল্প মূল্যায়নের প্রয়োজন পড়ে কারণ, এরূপ বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে অর্থ প্রাপ্তি দীর্ঘকালীন ও অনিশ্চিত।

মূলধন বাজেটিং-এর ধারণা (Concept of Capital Budgeting)

ছবি
মূলধন বাজেটিং হলো কোনো ফার্মের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তসংক্রান্ত কার্যাবলি। অন্য কথায় বলা যায় যে, কোনো কোম্পানির দালানকোঠা, জমি, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয়ের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং বলে।  ব্যাপক অর্থে, দীর্ঘদিন ধরে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহ পাওয়ার আশায় যদি কোনো কোম্পানি তার তহবিল দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে তাকে মূলধন বাজেটিং বলা হয়। অর্থাৎ, মূলধন বাজেটিং হচ্ছে একটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ায় একটি কোম্পানি তার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগযোগ্য তহবিল বিভিন্ন লাভজনক দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ ও প্রকল্পে বিনিয়োগ করে থাকে।

মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি (Inflation Risk)

ছবি
মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিকে ক্রয় ক্ষমতা ঝুঁকি বলে। মুদ্রাস্ফীতির সাথে ক্রয় ক্ষমতার বিপরীত সম্পর্ক। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মূল্য স্তর বৃদ্ধি পায় এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। সুতরাং মুদ্রাস্ফীতি বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহকে প্রভাবিত করে।  যেমন : একজন বিনিয়োগকারী ব্যাংকে ১০% সুদে ১,০০০ টাকা জমা রাখল। বছর শেষে সে সুদসহ ব্যাংক থেকে ১,১০০ টাকা পাবে। দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার যদি ১০% হয় তবে ওই বিনিয়োগকারীর প্রকৃতপক্ষে কোনো লাভ হয় নাই। কারণ ১০% মুদ্রাস্ফীতির কারণে সে যেই পরিমাণ পণ্য এক বছর আগে ১,০০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারতেন আজ সেই পরিমাণ পণ্য কিনতেও ১,১০০ টাকা লাগবে। দেশে যদি মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়তে থাকে বিনিয়োগকারীরা তখন বিনিয়োগ থেকে মুদ্রাস্ফীতির হার অপেক্ষা অধিক মুনাফার হার প্রত্যাশা করে।

সুদ হার ঝুঁকি (Interest Rate Risk)

ছবি
ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তনের ফলে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয় তাকে সুদ হার ঝুঁকি বলে । বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে বন্ডের মূল্য হ্রাস পাবে। অর্থাৎ‍ বিনিয়োগের মূল্য কমে যাবে।  কারণ সুদের হার এবং বন্ডের মূল্যের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিনিয়োগের বা সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পাওয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে তাকে সুদ হার ঝুঁকি বলে ।

তারল্য ঝুঁকি (Liquidity Risk)

ছবি
বিনিয়োগকৃত সিকিউরিটিসমূহ দ্রুত নগদ অর্থে রূপান্তর করতে যে ঝুঁকির উদ্ভব হয় তাকে তারল্য ঝুঁকি বলে। অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থের প্রয়োজনে তাদের বিনিয়োগকৃত সিকিউরিটিসমূহ বাজারে বিক্রয় করে সহজেই একে নগদ অর্থে রূপান্তর করে থাকেন।  যে আর্থিক সম্পদ যত দ্রুত নগদে রূপান্তর করা যায়, সেই সম্পদ তত তরল। বিনিয়োগকারীরা ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে সিকিউরিটিসমূহ বিক্রয় করতে চায়। কিন্তু অনেক সময় সিকিউরিটিসমূহ ক্রয় মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে বাজারে বিক্রয় করতে হয়। তারল্য বাজারের আকার এবং পরিধি বা গভীরতা দ্বারা প্রভাবিত হয়। বাজারের আকার এবং গভীরতা যত বেশি হবে তারল্য ঝুঁকি তত কম হবে। কারণ বিনিয়োগকারীরা সহজেই এবং যুক্তিসঙ্গত মূল্যে তাদের সিকিউরিটিসমূহ নগদ অর্থে রূপান্তর করতে পারেন।

ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও আর্থিক ঝুঁকি (Business Risk and Financial Risk)

ছবি
কারবার প্রতিষ্ঠান তার প্রত্যাশিত মুনাফার চাইতে কম মুনাফা করা অথবা লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় ব্যবসায় ঝুঁকি। ব্যবসায়িক ঝুঁকি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার সাথে জড়িত। এটি বিভিন্ন উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয় যেমন: বিক্রয়ের পরিমাণ, একক প্রতি বিক্রয় মূল্য, কাঁচামাল ব্যয়, প্রতিযোগিতা, সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও সরকারি আইনকানুন। ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলতে অনিশ্চয়তার কারণে কম মুনাফা বা ক্ষতির সম্ভাবনা নির্দেশ করে, যেমন-ভোক্তার রুচি বা পছন্দের পরিবর্তন, ধর্মঘট, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, সরকারি নীতির পরিবর্তন, অপ্রচলন ইত্যাদি। কোনো ফার্মের আর্থিক দায় পরিশোধ করার অক্ষমতাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে। কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পদে অর্থায়নের জন্য যখন ঋণকৃত তহবিল ব্যবহার করে তখনই আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের যখন ঋণের পরিমাণ অধিক হয় তখন নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিষ্ঠানের আসলের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের ব্যর্থতার জন্য জার্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

আর্থিক ঝুঁকি (Financial Risk)

ছবি
আর্থিক ঝুঁকি বহিস্থ উৎস থেকে অর্থায়ন থেকে সৃষ্টি হয়। যে প্রতিষ্ঠানের ঋণের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল বেশি, সেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি বেশি। কারণ ঋণ মূলধনের জন্য সুদ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। পক্ষান্তরে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হলে মুনাফা বণ্টন বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং ঋণ মূলধন ব্যবহার করা হলে কারবারটি যদি লাভজনক না হয়, তখন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং ফলে কারবারটির বিলোপসাধন হতে পারে। ঋণ মূলধন ব্যবহার করলে সুদ এবং উক্ত অর্থ পরিশোধের দায় সৃষ্টি হয়।  উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোম্পানি যদি ১৫% হারে ৫০ লক্ষ টাকার বছর মেয়াদি বন্ড বিক্রয় করে, তাহলে প্রতিবছর ৭,৫০,০০০ টাকা সুদ এবং পাঁচ বছর শেষে ৫০ লক্ষ টাকা পরিশোধের দায় সৃষ্টি হয়। কোম্পানি সাধারণত ঋণকৃত মূলধন বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ দিয়ে ঋণকৃত মূলধনের দায় পরিশোধ করে। কোনো কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ না পেলে দায় পরিশোধের অক্ষমতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন দায় পরিশোধ করতে না পারলে ঋণ সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার...

ব্যবসায়িক ঝুঁকি ( Business Risk)

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সফলভাবে চালানোর জন্য বিভিন্ন রকম পরিচালনা ব্যয়ের সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকদের বেতন, অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদি। এসব পরিচালনা খরচ পরিশোধের অক্ষমতা থেকে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। কোনো কোম্পানির পরিচালনা ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা নির্ভর করে বিক্রয় থেকে আয়ের স্থিতিশীলতা এবং পরিচালনা খরচের মিশ্রণ অর্থাৎ স্থায়ী এবং চলতি খরচের অনুপাতের উপর। বিক্রয় আয়ে স্থিতিশীলতা না থাকলে অর্থাৎ বিক্রয়লব্ধ কোনো সময় আয় বেশি আবার কোনো সময় কম হলে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যয় মেটাতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আবার পরিচালন ব্যয়ে স্থায়ী খরচ যেমন: অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদির পরিমাণ বেশি হলে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয় । যদি কোম্পানিটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করে থাকে অর্থাৎ কোম্পানি কোনো বহিস্থ অর্থায়ন না করে তখন মুনাফাসংক্রান্ত এই অনিশ্চয়তাকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলে। এর উৎস হিসেবে বিক্রয়মূল্য পরিবর্তন, বিক্রয় পরিমাণ পরিবর্তন, উৎপাদনের উপকরণের মূল্য পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্থায়ী খরচের প্রবণতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কোম্পানি ঝুঁকি (Company Risk)

মোট ঝুঁকির  সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকিকে কোম্পানি ঝুঁকি বলে। ব্যবসায়িক ঝুঁকি, আর্থিক ঝুঁকি, তারল্য ঝুঁকি ইত্যাদি উৎস থেকে কোম্পানি ঝুঁকি সংঘটিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে উৎপাদন শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির অনশন বা ধর্মঘটের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে যে ক্ষতি সাধিত হয় তা শুধু উক্ত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করবে। যা অন্য কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করবে না। তাই বলা যায়, নির্দিষ্ট ঝুঁকি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় উক্ত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিতে কোম্পানি ঝুঁকি বলা হয়। একজন বিনিয়োগকারী বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে কোম্পানি ঝুঁকি পরিহার করতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানি ঝুঁকি পরিহারযোগ্য। তাই কোম্পানি ঝুঁকিতে পরিহারযোগ্য ঝুঁকিও বলে।

মোট ঝুঁকি (Total Risk)

সাধারণত যেকোনো কাজই ঝুঁকি নিয়ে শুরু করতে হয়। বিশেষ করে কোনো প্রকল্পে বা প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা এই ঝুঁকির পরিমাণ বিশ্লেষণ করে থাকি। যেহেতু বিনিয়োগের সাথে আয়ের বিষয়টি সম্পর্কিত সেহেতু এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকির পরিমাপ করা হয়। কোনো প্রকল্পে নির্দিষ্ট সময়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের ফলে প্রত্যাশিত আয় থেকে প্রকৃত আয় কম হলে বা ক্ষতির যে আশঙ্কা রয়েছে তা নির্ণয়ের প্রক্রিয়া বা পরিমাপকে মোট ঝুঁকি বলা হয়। আধুনিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে মোট ঝুঁকি হচ্ছে মার্কেট ঝুঁকি ও কোম্পানি ঝুঁকির সমষ্টিগত ফলাফল।

পোর্টফোলিও ও পোর্টফলিও ঝুঁকি (Portfolio and Portfolio Risk)

একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পে বিনিয়োগ না করে একাধিক সুবিধাজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ করাকে পোর্টফলিও বিনিয়োগ বলে। সকল বিনিয়োগকারীই সবসময় তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের নিরাপত্তা চায়। বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে চায়। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি একক বিনিয়োগকে অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে পৃথক করা দুষ্কর। তাই বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ পদ্ধতিকে এমনভাবে সাজাতে চায় যেন উক্ত প্রকল্পে ঝুঁকির পরিমাণ ন্যূনতম হয়। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীগণ কোনো নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ না করে একাধিক খাতে বিনিয়োগ করে থাকে। যাতে বিনিয়োগকারী ঝুঁকির মাত্রা হ্রাস করে এক বা একাধিক প্রকল্পের লাভ দ্বারা ঝুঁকি পুষিয়ে নিতে পারে। এ ধরনের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়ের সমন্বয়কে পোর্টফোলিওর পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি বা ঝুঁকির পোর্টফোলিও বলা হয়। আর বিনিয়োগকারীদের এ আচরণগত দিক বিশ্লেষণ করে পোর্টফোলিও তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে। ১৯৫২ সালে Henry Markowitz তার রচিত "Portfolio Selection" নামক প্রবন্ধে সর্বপ্রথম এ ধাঁরণার উদ্ভব ঘটান। মূলত একাধিক সম্পদ, সিকিউরিটিজ শেয়ারে বিনিয...

বাজার ঝুঁকি (Market Risk)

একটি দেশের আর্থিক বাজার উক্ত দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ ইত্যাদি বিভিন্ন উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। তার মধ্যে বিশেষ করে উক্ত দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকৃত সম্পদের মূল্য হ্রাসের যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয় তাকে বাজার ঝুঁকি বলে। সকল প্রকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই বাজার ঝুঁকি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাধারণ শেয়ার ও কোম্পানি বন্ড। সুদের হারের পরিবর্তন, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের হার, যুদ্ধ-বিগ্রহ, নানা প্রকার মন্দা ইত্যাদি ঝুঁকি হচ্ছে বাজার ঝুঁকির উৎস। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মূল্য উল্লেখিত উপাদানগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ঝুঁকির সৃষ্টি করে। একজন বিনিয়োগকারী ইচ্ছা করলেই বাজার ঝুঁকি পরিহার করতে পারে না। তাই বলা যায়, বাজার ঝুঁকি অপরিহারযোগ্য। যদি শেয়ার বাজার অধিক পরিমাণে হ্রাস পায় তাহলে অধিকাংশ শেয়ারের মূল্য হ্রাস পায়। আবার শেয়ারের বাজার বৃদ্ধি পেলে, অধিকাংশ শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পায়। মোটকথা শেয়ার বাজারের মূল্য ওঠা-নামার মধ্য দিয়েই বাজার ঝুঁকির সৃষ্টি...

একক ঝুঁকি (Unit Risk)

কোনো ব্যক্তি একটিমাত্র কোম্পানি বা ফার্মে বা প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসায়িক সুবিধা লাভ করার প্রাক্কালে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয় তাকে একক ঝুঁকি বলে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী যখন একটিমাত্র প্রকল্পে বা ফার্মে সম্পদ বিনিয়োগ করে তখন যে ঝুঁকি বহন করে তাকে একক ঝুঁকি বলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে জনাব সোহেল  রবি কোম্পানির কিছু শেয়ার ক্রয় করেছেন। তিনি ক্রয়কৃত শেয়ার থেকে ২০% লাভ প্রত্যাশা করছেন। এ লক্ষ্যে তিনি এখানে ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কথা থাকে যে তিনি উক্ত ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে রাখলে বার্ষিক ১২% হারে নির্দিষ্ট সুদ পেতেন। এক্ষেত্রে যদি জনাব সোহেল শেয়ার বাজারের মূল্য উঠা-নামার সৃষ্ট ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন যা তিনি একাই বহন করবেন। কিন্তু তিনি ব্যাংকে টাকাটা জমা রাখলে প্রতিবছর তিনি উক্ত টাকার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ পেতেন, যা থেকে তিনি থাকতেন ঝুঁকিমুক্ত। তিনি অধিক লাভের প্রত্যাশায় শেয়ার বাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাই ঝুঁকির পরিমাণ যত বেশিই হোক তাকে একাই তা বহন করতে হবে। 

ঝুঁকির ধারণা (Concept of Risk)

আভিধানিক অর্থে ঝুঁকি বলতে আর্থিক ক্ষতি, বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে বোঝায়। মানুষের জীবনটাই অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও এটা ব্যতিক্রম নয়। ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত, ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারে না। ভবিষ্যতের এরূপ অনিশ্চিত ঘটনা থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। অনিশ্চিত কারণে ভবিষ্যতে ক্ষয়-ক্ষতি, আপদ-বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে ঝুঁকি বলে। আবার আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের ফলাফল লাভের সম্ভাবনাকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ প্রত্যাশিত আয়ের চেয়ে প্রকৃত আয় বেশিও হতে পারে, আবার কমও হতে পারে এমন সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।

ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা (Risk and Uncertainty)

যদিও অনিশ্চয়তা থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, সব অনিশ্চয়তা ঝুঁকি নয়। খারাপ কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কাই হচ্ছে ঝুঁকি। কিন্তু খারাপ কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কেমন তা যদি জানা না থাকে, তবে সেই অনিশ্চয়তাকে ঝুঁকি বলা যায় না।  অন্যভাবে বলা যায়, অনিশ্চয়তার যে অংশটুকু পরিমাপ করা যায় সে অংশকে ঝুঁকি বলা হয়। কিছু কিছু অনিশ্চয়তা আছে, যা পরিমাপ করা যায়না। উদাহরণস্বরূপ, একটি কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তার মৃত্যু হতে পারে, এটা একটা অনিশ্চয়তা, কিন্তু এই অনিশ্চয়তাকে পরিমাপ করা যায় না। ফলে এই রকম অনিশ্চয়তাকে ঝুঁকি বলা যায় না। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি পরিমাপ করা যায় বলে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে ঝুঁকির পরিমাণ কমানো যায়। কিন্তু অনিশ্চয়তাকে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে কমানো বা পরিহার করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, ভূমিকম্পের কারণে কোনো কোম্পানির অফিস দালান ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু ভূমিকম্প কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে নেই বলে এই অনিশ্চয়তাকে কোম্পানি পরিহার করতে পারে না। পক্ষান্তরে, আগামী বছর কোম্পানির বিক্রয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা একটি ঝুঁকি। কারণ, এই ঝুঁকি পরিমাপ করা যায় এ...

ঝুঁকির ধারণা (Concept of Risk)

আভিধানিক অর্থে ঝুঁকি বলতে আর্থিক ক্ষতি, বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে বোঝায়। মানুষের জীবনটাই অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও এটা ব্যতিক্রম নয়। ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত, ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারে না। ভবিষ্যতের এরূপ অনিশ্চিত ঘটনা থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। অনিশ্চিত কারণে ভবিষ্যতে ক্ষয়-ক্ষতি, আপদ-বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে ঝুঁকি বলে। আবার আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের ফলাফল লাভের সম্ভাবনাকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ প্রত্যাশিত আয়ের চেয়ে প্রকৃত আয় বেশিও হতে পারে, আবার কমও হতে পারে এমন সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।

৬৯ বিধি (Rule-69)

Rule-69 ও Rule-72-এর মতো একটি অভিজ্ঞাতালব্ধ হাতুড়ে পদ্ধতি। যার সাহায্যে আরো সঠিকভাবে দ্বিগুণ হওয়ার সময় নির্ণয় করা হয়। তবে Rule-72 এবং Rule-69 উভয়ই সময় দিগুণ হওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা লব্ধ সূত্র হলেও Rules 69 বেশি কার্যকর । এই Rule অনুযায়ী দিগুণ হওয়ার সময়ের সূত্র, ০.৩৫ + (৬৯÷i) [i= সুদের হার] যাদি সুদের হার ১২% হয় তবে দ্বিগুণ হতে সময় লাগবে ০.৩৫ +(৬৯÷১২)= ৬.১০ বছর

৭২ বিধি (Rule - 72)

বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই জানতে চায় কত সময়ে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ সুদসহ দ্বিগুণ হবে। এটা সাধারণত Future value of interest factor table ব্যবহার করে নির্ণয় করা যায়। অনেক সময় দ্রুত হিসাব করার ক্ষেত্রে এই টেবিল পদ্ধতি ব্যবহার করে সুদ নির্ণয় করা বেশ ঝামেলাপূর্ণ হয়। এই অবস্থায় অভিজ্ঞতালব্ধ বা হাতুড়ে প্রণালি ব্যবহার করে দ্রুত সুদাসল দ্বিগুণ হবে কত সময়ে তা নির্ণয় করা যায়। এই পদ্ধতিটির নাম হচ্ছে Rule-72 বা '৭২’ বিধি।  '৭২’-এর নিয়ম অনুযায়ী ৭২ কে সুদের হার দিয়ে ভাগ করলে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হওয়ার সময় পাওয়া যাবে। পক্ষান্তরে, ৭২ কে সময় দিয়ে ভাগ করলে সুদের হার পাওয়া যাবে। সুদের হার ১২% হলে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হতে সময় লাগবে। ৭২÷১২ = ৬ বছর। আবার যদি ৬ বছরে দ্বিগুণ হতে হয় তবে সুদের হার হবে ৭২÷৬= ১২%।

বাট্টাকরণ ও বর্তমান মূল্য (Discounting and Present value)

বাট্টাকরণ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার সাহায্যে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর অর্জিত মোট টাকার বর্তমান মূল্য কত তা বের করা যায়। বাট্টাকরণ আসলে চক্রবৃদ্ধির ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়া। চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতিতে ১০০ টাকা ১০% হারে ১ বছর পর হবে ১১০ টাকা এবং দুই বছর পরে হবে ১২১ টাকা। তেমনি এক বছর পরের ১১০ টাকার ১০% হার বাটার বর্তমান মূল্য হবে ১০০ টাকা— এটি হলো বাটাকরণ। এ ব্যাপারে চক্রবৃদ্ধির ঠিক উল্টো প্রক্রিয়া বা সূত্র ব্যবহার করতে হয়।

অর্থের সময়মূল্যের কারণ/অর্থের সময় মূল্য পছন্দের কারণ (Causes of Time Value of Money)

অর্থের সময়মূল্য পছন্দের পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ : (ক) ভোগ অগ্রাধিকার : সব মানুষই ভোগের ক্ষেত্রে বর্তমানকে অগ্রাধিকার দেয়। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনো একসময়ের চেয়ে এখনই বা আজই ভোগ করার সুযোগ সবাই সদ্ব্যবহার করতে চায়।  (খ) ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা : ভবিষ্যৎ সব সময়ই অনিশ্চিত। তাই ভবিষ্যতে সমপরিমাণ টাকার ক্রয়ক্ষমতা একই থাকবে কি না বা দেশের পরিস্থিতি বর্তমানের মতো থাকবে কি না তা অনিশ্চিত। (গ) বিনিয়োগের সুযোগ : অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকে। তাই বর্তমানে নগদ অর্থ হাতে পেতে সকলেই চায়। (ঘ) মুদ্রাস্ফীতি : সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সাধারণত অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। এর মূল কারণ মুদ্রাস্ফীতি। তাই ভবিষ্যতে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের ফলে যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে তা এড়ানোর জন্য সবাই বৰ্তমান প্রাপ্তি পছন্দ করেন।

অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য ও বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি (Future value of money and Annual Compounding)

সুদের হার শতকরা ১০ ভাগ হলে এখনকার ১০০ টাকা, আগামী বছরের ১১০ টাকা এবং ২ বছর পরের ১২১ টাকার সমান মূল্য বহন করে। এই ১০০ টাকাকে বলা হয় বর্তমান মূল্য এবং ১১০ ও ১২১ টাকাকে বলা হয় ভবিষ্যৎ মূল্য।  আর এখানে যে প্রক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়েছে, তাকে বলা হয় চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি। এখানে লক্ষণীয় যে এক বছর পরে ১১০ টাকা ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে আসল ১০০ টাকা ও সুদ ১০% হারে ১০ টাকা। একই ভাবে দ্বিতীয় বছর আরও ১০ টাকা সুদ হলে দ্বিতীয় বছরে ভবিষ্যৎ মূল্য হওয়া উচিত ১২০ টাকা কিন্তু দ্বিতীয় বছরের ভবিষ্যৎ মূল্য হয়েছে ১২১ টাকা। এর কারণ দ্বিতীয় বছরের শুরুতে আসল ধরা হয় ১১০ টাকা এবং তাতে করে দ্বিতীয় বছরে ১০% হারে সুদ হয় ১১ টাকা। এভাবে প্রথম বছরের সুদাসলকে দ্বিতীয় বছরের আসল ধরে তার উপর দ্বিতীয় বছরের সুদ ধার্য করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি। চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতিতে প্রতিবছর সুদাসলের উপর সুদ ধার্য করে ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ সুদ আসলের উপর যে সুদ প্রদান করা হয় তাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলা হয়। কিন্তু সরল সুদের ক্ষেত্রে কেবল আসলের উপর সুদ গণনা করা হয়।

অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য (Future value of money)

এখনকার ১০০ টাকা ভবিষ্যতের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না অর্থাৎ এখনকার ১০০ টাকা কোথাও বিনিয়োগ করে অতিরিক্ত যে অর্থ আশা করি তাকে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বলে।  উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুদের হার শতকরা ১০ ভাগ হলে এখনকার ১০০ টাকা, আগামী বছরের ১১০ টাকা এবং ২ বছর পরের ১২১ টাকার সমান মূল্য বহন করে। এই ১০০ টাকাকে বলা হয় বর্তমান মূল্য এবং ১১০ ও ১২১ টাকাকে বলা হয় ভবিষ্যৎ মূল্য।

সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost)

কোনো একটি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করলে অন্য কোনো প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে ত্যাগ করতে হয়। যাকে অর্থায়নে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বলা হয়।  সুতরাং অর্থের সময়মূল্যের সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে এই সুযোগ ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: তোমার এলাকায় জমির মূল্য ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়। পক্ষান্তরে সোনালী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাবে সুদের হার ধরা যাক শতকরা ৮ ভাগ। জমি কিনলে সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে না, তাই জমি ক্রয়ের সুযোগ ব্যয় এ ক্ষেত্রে ৮%। এ ক্ষেত্রে আমরা সূত্র  ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে জমি কেনা উচিত, নাকি সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা উচিত। এ ব্যাপারে একটি সহজ এবং মোটামুটি সঠিক পদ্ধতি ‘রুল ৭২' নামে পরিচিত। টাকা দ্বিগুণ হলে ৭২-কে মেয়াদ দিয়ে ভাগ করলে সুদের হার পাওয়া যায়, আবার ৭২-কে সুদের হার দিয়ে ভাগ করলে মেয়াদ পাওয়া যায়। জমির মূল্য যেহেতু ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়। সুতরাং সুদের হার (৭২/১০) বা ৭.২%। সুতরাং জমি ক্রয় না করে সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা যুক্তিসংগত।

অর্থের সময়মূল্যের গুরুত্ব (Importance of time value of money)

ব্যবসায়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সাথেই অর্থের আন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহ জড়িত থাকে। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এই আন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের মেয়াদভিত্তিক বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ফলে অর্থের সময়মূল্যের গুরুত্ব বিবেচনায় বলা যায়- ক) সুযোগ ব্যয় : কোনো একটি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করলে অন্য কোনো প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে ত্যাগ করতে হয়। যাকে অর্থায়নে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বলা হয়। সুতরাং অর্থের সময়মূল্যের সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে এই সুযোগ ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: তোমার এলাকায় জমির মূল্য ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়। পক্ষান্তরে সোনালী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাবে সুদের হার ধরা যাক শতকরা ৮ ভাগ। জমি কিনলে সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে না, তাই জমি ক্রয়ের সুযোগ ব্যয় এ ক্ষেত্রে ৮%। এ ক্ষেত্রে আমরা সূত্র  ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে জমি কেনা উচিত, নাকি সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা উচিত। এ ব্যাপারে একটি সহজ এবং মোটামুটি সঠিক পদ্ধতি ‘রুল ৭২' নামে পরিচিত। টাকা দ্বিগুণ হলে ৭২-কে মেয়াদ দিয়ে ভাগ করলে সুদের হার পাওয়া যায়, আবার ৭২-কে সুদের হার ...

অর্থের সময়মূল্যের ধারণা (Concept of time value of money)

এখনকার ১০০ টাকা আর পাঁচ বছর পরের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না, এখনকার ১০০ টাকা অধিকতর মূল্যবান। এটাই অর্থের সময়মূল্য ধারণা। অর্থের সময়মূল্যের মূল কারণ সুদের হার।  মনে কর, তুমি তোমার বন্ধুর কাছে ১০০ টাকা পাও, এমতাবস্থায় সে বলল ১০০ টাকা এখন না পরিশোধ করে ১ বছর পর পরিশোধ করবে। অর্থের সময়মূল্য বলে যে এখনকার ১০০ টাকা আর এক বছর পরের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না। ধরা যাক, সুদের হার শতকরা ১০ ভাগ অর্থাৎ তুমি যদি ব্যাংকে এখন ১০০ টাকা জমা রাখ, তবে আগামী বছর ব্যাংক তোমাকে ১১০ টাকা দেবে। সুতরাং এখনকার ১০০ টাকা এবং আগামী বছরের ১১০ টাকা অর্থের সময়মূল্য অনুযায়ী সমান মূল্য বহন করে। এটাই অর্থের সময় মূল্য। 

শেয়ারের সেকেন্ডারি বা মাধ্যমিক বাজার (Secondary Market of Share)

মাধ্যমিক বাজার প্রাথমিক বাজারের ইস্যুকৃত  শেয়ার ও বন্ড যখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে বাজারে কেনাবেচা হয় তখন ঐ বাজারকে মাধ্যমিক বাজার বলা হয়।  প্রাথমিক বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করতে হলে নির্দিষ্ট ফরমে দরখাস্ত করতে হবে। দরখাস্ত করলেই শেয়ার পাওয়া যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু মাধ্যমিক বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করতে হলে দরখাস্ত করার প্রয়োজন হয় না এবং ব্রোকারেজ হাউলের মাধ্যমে যেকোনো বিনিয়োগকারী এবং ইচ্ছামতো শেয়ার বা বন্ড ক্রয় করতে পারবে।

শেয়ারের প্রাথমিক বাজার (Primary Market of Share)

কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যখন প্রাথমিকভাবে বাজারে তাদের শেয়ার বা বড় বিক্রয় করে তখন ঐ বাজারকে প্রাথমিক বাজার বলে।  নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অধিক মূলধন সংগ্রহ এবং সেকেন্ডারি বাজারে প্রবেশ করাই এ বাজারের মূল উদ্দেশ্য।

শেয়ার বাজার (Share Market)

যে বাজারের মাধ্যমে কোম্পানি শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করে সেই বাজারকে শেয়ার বাজার বলা হয়।  একজন বিনিয়োগকারীদুটি উপায়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। যেমন— প্রাথমিক বাজার ও মাধ্যমিক বাজার। প্রাথমিক বাজারে কোম্পানি শেয়ার, বন্ড ইত্যাদি বিক্রির প্রথম প্রস্তাব করে। আর মাধ্যমিক বাজারে প্রাথমিক বাজারের ইস্যুকৃত শেয়ার, বন্ড ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব করে।

বন্ড ও ইকুইটি বাজার (Bond and Equity Market)

আর্থিক বাজারে যে সকল আর্থিক সম্পদ বা হাতিয়ার লেনদেন হয় তাদের মধ্যে (ক) ঋণপত্র বা বন্ড (খ) শেয়ার বা ইকুইটি এই দুই ধরনের আর্থিক সম্পদই প্রধান। ঋণপত্র বা বন্ড বিক্রয় করে কোনো কোম্পানি নির্দিষ্ট সুদের হারে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে। যারা এই ঋণ প্রদান করে তারা কোম্পানির পাওনাদার। পক্ষান্তরে, শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি যে মূলধন সংগ্রহ করে তাকে কোম্পানির ইকুইটি বা নিজস্ব মূলধন বলে। যারা এই শেয়ার ক্রয় করে তাদের শেয়ারহোল্ডার বলে এবং তারা কোম্পানির মালিক। “বন্ড ও ইকুইটি বাজার” বলতে ঐ সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয় যারা বন্ড ও শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকেন। এই বাজারের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, বিভিন্ন বাণিজ্যক ব্যাংক, সাধারণ বিনিয়োগকারী ইত্যাদি।

মুদ্রা বাজার (Money Market)

মুদ্রা বাজার আর্থিক বাজারের ওই অংশ যেখানে স্বল্পমেয়াদের লেনদেন হয়। অন্যভাবে বলা যায় মুদ্রাবাজার ওইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় যেখানে মেয়াদের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য আর্থিক সম্পদের যেমন: নগদ অর্থ স্বল্পমেয়াদি জমা, ঋণ, বাণিজ্যিক পত্র ইত্যাদির লেনদেন হয়। মূলধন বাজারের সকল বৈশিষ্ট্য মুদ্রাবাজারে বিদ্যমান শুধু মেয়াদ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ব্যতিক্রম।

পুঁজিবাজার/মূলধন বাজার (Capital Market)

মূলধন বাজার আর্থিক বাজারের ওই অংশ যেখানে দীর্ঘমেয়াদের জন্য অর্থ ও আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়।  একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়; যেমন— নগদ অর্থ, শেয়ার, ডিবেঞ্চার, স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ইত্যাদি। এসব আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয় সাধারণত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। মূলধন বাজার হচ্ছে ওইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় যেখানে দীর্ঘমেয়াদের ভিত্তিতে আর্থিক সম্পদের যেমন- শেয়ার, ডিবেঞ্চার ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের লেনদেন হয়। অর্থাৎ “মূলধন বাজার হলো একটি দেশের উদ্বৃত্ত শ্রেণি ও ঘাটতি শ্রেণির একটি সমাবেশ বা যোগাযোগ নেটওয়ার্ক যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেন করে ব্যবসায়, বাণিজ্য, শিল্প ও অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে।” সুতরাং আধুনিক মূলধন বাজার বলতে এখন আর কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায় না, বরং মূলধন বাজার বলতে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে বোঝানো হয়, যার মাধ্যমে মূলধন বাজারের বিভিন্...

আর্থিক বাজারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Financial Market)

একটি আর্থিক বাজারের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয় : ১. ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান : আর্থিক বাজার এমনই একটা ব্যবস্থা, যেখানে সব সময় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমাবেশ এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়। ২. আর্থিক সম্পদের লেনদেন : আর্থিক বাজারে সমাজের উদ্বৃত্ত শ্রেণি এবং ঘাটতি শ্রেণির মধ্যে আর্থিক সম্পদ যেমন- নগদ অর্থ, ট্রেজারি বিল, সার্টিফিকেট অব ডিপোজিট, বাণিজ্যিক পত্র, শেয়ার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদির লেনদেন হয়ে থাকে। ৩. মেয়াদ : আর্থিক বাজারে সর্বদাই দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়। ৪. ঘাটতি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণি বিদ্যমান : আর্থিক বাজারে দুটি শ্রেণি বিদ্যমান-ঘাটতি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণি। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উদ্বৃত্ত শ্রেণির অর্থ ঘাটতি শ্রেণির কাছে পৌঁছে দিয়ে তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করাই আর্থিক বাজারের প্রধান কাজ। ৫. বিনিয়োগ সুবিধা সৃষ্টি : আর্থিক বাজার ঘাটটি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণির জন্য বিভিন্ন বিনিয়োগ সুবিধার সৃষ্টি করে তাদের পছন্দমতো সুযোগ গ্রহণের নিশ্চয়তা প...

আর্থিক বাজার (Financial Market)

সাধারণভাবে আর্থিক বাজার হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা যা কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি, যেখানে অর্থ ও বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ (স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি) কেনা-বেচা হয়। আর্থিক বাজারে দুটি শ্রেণি বিদ্যমান— একটি উদ্বৃত্ত শ্রেণি এবং অপরটি ঘাটতি শ্রেণি। উদ্বৃত্ত শ্রেণি তাদের টাকা বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রেখে বা ঘাটতি শ্রেণি কর্তৃক সৃষ্ট বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ ক্রয় করে তাদের টাকা বিনিয়োগ করে।  অপর দিকে ঘাটতি শ্রেণি বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণ করে বা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ বিক্রি করে তাদের প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহ করে। এই ঋণ প্রদান ও গ্রহণ বা আর্থিক সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো স্থানে হতে পারে বা একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও হতে পারে। এই নির্দিষ্ট স্থান বা যোগাযোগ নেটওয়ার্ককেই বলা হয় আর্থিক বাজার। অন্যভাবে বলা যায় আর্থিক বাজার হলো কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি যারা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদের লেনদেন করে থাকে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন (Long term Finance)

সধারনত ৫ বছর বা তার অধিক সময়ের জন্য যে অর্থায়ন করা হয় তাকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে।  দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মেয়াদ হচ্ছে ৫ বছর থেকে ঊর্ধ্বে যেকোনো সময়কাল পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের আকার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি উৎসের তুলনায় বড় হয়, ফলে এই তহবিল বিভিন্ন স্থায়ী সম্পত্তি যেমন: ভূমি, দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘমেয়াদি তহবিল ঋণের মাধ্যমে গৃহীত হলে তা চুক্তি মোতাবেক পরিশোধ করতে হয়। আর যদি শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হয়, তবে তা মালিকের তহবিল হিসেবে বিবেচিত হয় বলে ব্যবসা বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হয় না। একমালিকানা ও অংশীদারি কারবারে মালিকের নিজস্ব মূলধনও সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবহার করা যায়। শেয়ার  লভ্যাংশ করযোগ্য কিন্তু ঋণপত্রের সুদ করযোগ্য নয়। এ কারণে শেয়ার বিক্রয় করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করলে যে খরচ হয়, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিলে অপেক্ষাকৃত কম খরচ হয়।

মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন (Mid term Finance)

এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সংগৃহীত তহবিল কে মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন বলে।  একটি প্রতিষ্ঠান মধ্যমমেয়াদি তহবিল ব্যবহার করে ব্যবসার চলমান মূলধনের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মিটায়। এই তহবিলের খরচ বা সুদের হার স্বল্পমেয়াদি তহবিলের খরচ হতে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের খরচ হতে কম হয়।

স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন (Short term Finance)

১ বছর বা  কম সময়ের জন্য সংগৃহীত তহবিলকে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বলে। স্বল্পমেয়াদ বলতে ১ বছরের কম সময়কে বুঝানো হয়।  একটি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ অর্থায়ন মূলত স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে সংগ্রহ করা হয়, যা এক বছর বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য। স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কিছু সুবিধা থাকে। স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে অর্থ সংস্থানের খরচ তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুইই হতে পারে। যেমন: বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে গৃহীত ঋণের জন্য স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলকভাবে সুদের হার বেশি প্রদান করতে হয়। আবার বিভিন্ন ঋণমুক্ত উৎস যেমন: বাকিতে পণ্য ক্রয়, বকেয়া মজুরির মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সময়ের জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারে। যার কোনো মূলধনি খরচ নেই। স্বল্পমেয়াদি অর্থ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে দ্রুততম ও সরল প্রক্রিয়া। পক্ষান্তরে, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থ আদান-প্রদানের জন্য অনেক সময় ব্যয় ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। যেসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য দ্রব্যের চাহিদা এক বছর সময়ের মধ্যে অতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে সেসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও অর্থায়নের দ...

মজুত মাল বন্ধকীকরণ (Mortgage of Stocks)

স্বল্পমেয়াদি অর্থ সংস্থানের জন্য মজুতপণ্য ব্যবহার করা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থ সংস্থানের জন্য কোনো স্বনামধন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তার মজুতপণ্য জামানত বা বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করাকে মজুত মালের মাধ্যমে অর্থসংস্থান বলা হয়। এ ধরনের অর্থ সংস্থানের ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ ফেরত না দেয়া পর্যন্ত মজুতপণ্যের উপর ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার বজায় থাকে।

বাণিজ্যিক পত্র (Commercial Paper)

বাজারে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এমন কম্পানিগুলো স্বল্পমেয়াদি তহবিলের জন্য অবহারে যে জামানতবিহীন দলিল ইস্যুর মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে তাকে  বাণিজ্যিক পত্র  বলে। কারবারি প্রতিষ্ঠান অর্থায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়ান্তে লাভসহ আসল অর্থ ফেরত প্রদানের অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে এই বাণিজ্যিক পত্র (Commercial Paper) বিক্রয় করে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয়ে জামানত হিসাবে কাজ করে। সাধারণত যে সকল ব্যক্তির সাময়িক সময়ের জন্য কিছু অব্যবহার্য অর্থ থাকে, তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিকল্প হিসাবে এই বাণিজ্যিক পত্র ক্রয় করে। সাধারণত খ্যাতিমান ব্যক্তি, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, পেনশন তহবিল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয় করে সাময়িক সময়ের জন্য অর্থায়ন করতে পারে।

ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন বা ব্যাংক ওভার ড্রাফট (Bank Overdraft)

ব্যাংক জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনকে ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন বলে। স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণের একটি উৎস ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন। সব প্রতিষ্ঠানই মূলত চলতি হিসাবের মাধ্যমে পাওনা আদায় ও দেনা পরিশোধ করে থাকে।  এ ধরনের ব্যাংক হিসাব সাধারণত মক্কেলকে বা প্রতিষ্ঠানকে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সুযোগ প্রদান করে, তবে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ব্যাংক সীমাবদ্ধ করে দেয়। সাধারণত অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ঋণের সুদ প্রদান করতে হয়, কিন্তু এ ধরনের ঋণের সুদ শুধু যখন থেকে জমাতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ব্যবহার করা হয়, কেবল তখন থেকেই সুদ দিতে হয়। তবে এ ধরনের ঋণের সুদের হার অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে বেশি এবং এটি ব্যাংক চাওয়ামাত্রই ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হয়।

স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ (Short Term Bank Loan)

স্বল্প সময়ের জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ গ্রহণ করা হয় তাকে স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ বলে। স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ একটি প্রধান উৎস। এ ধরনের ব্যাংক ঋণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ান্তে সুদসহ আসল একসাথে পরিশোধ করা হয়।  অনেক সময় ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ঋণের কিছু অংশ  বা সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধে উৎসাহ প্রদানের নিমিত্তে মোট পরিমাণের উপর কিছু ছাড় প্রদান করে। যেমন: একজন ঋণ গ্রহীতার ৬ মাস পর প্রদেয় ১০০০ টাকা যদি ৬ মাসের আগে পরিশোধ করে তবে ঋণগ্রহীতা ব্যাংককে ২% কম অর্থ প্রদান করতে পারে অর্থাৎ ঋণগ্রহীতা ব্যাংককে ৯৮০ টাকা প্রদান করবে। এছাড়া ঋণগ্রহীতা যদি নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার না করে ব্যাংক চাওয়া মাত্রই ঋণ পরিশোধের শর্তে ঋণ গ্রহণ করে, তবে সেটিকে চাহিবামাত্র প্রদেয় ঋণ বলা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের বিকল্প উৎস আছে তারা স্বল্প খরচে এই উৎস ব্যবহার করতে পারে।

প্রদেয় বিল (Bills Payable)

ব্যবসায়িক লেনদেন বেশির ভাগ বাকিতে হয়। তাই বাকিতে ক্রয়ের সময় ক্রয়ের বিপরীতে বিলের স্বীকৃতি দিলে তাকে প্রদেয় বিল বলে। প্রদেয় বিল এক প্রকার বিনিময় বিল। বিক্রেতার দৃষ্টিতে এটি প্রাপ্য বিল, যা ক্রেতার দৃষ্টিতে প্রদেয় বিল ও একটি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের উৎস। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যখন কাঁচামাল, উৎপাদনসামগ্রী ইত্যাদি বাকিয়ে ক্রয় করে, তখন সাময়িক সময়ের জন্য ব্যবসায়ে অর্থসংস্থান হয়। কারণ বাকিতে ক্রয়ের সুবিধা না পেলে নগদে পণ্য ক্রয় করতে অর্থের প্রয়োজন হতো, যার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদসহ ফেরত দিতে হতো।

প্রাপ্য বিল বাট্টাকরণ (Discounting Bills Receivable)

পণ্য যখন বাকিতে ক্রয় করা হয়, তখন ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বিক্রেতাকে একটি দলিলের মাধ্যমে এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে নির্দিষ্ট মেয়াদ (সাধারণত তিন মাস) শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পণ্য ক্রয় বাবদ পরিশোধ করবে। এই দলিলকে বিনিময় বিল বলা হয়। বিক্রেতার কাছে এই বিলটি একটি প্রাপ্য বিল। এই ধরনের বিল বাণিজ্যিক ব্যাংকে ভাঙ্গিয়ে বা বাট্টা করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা যায়।  ধরা যাক, একজন ক্রেতা জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ৫,০০০ টাকার পণ্যদ্রব্য বাকিতে ক্রয় করে বিক্রেতাকে বিনিময় বিল নামক দলিলে এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে, সে মার্চ ৩০ তারিখের মধ্যে বিক্রেতাকে ৫,০০০ টাকা পরিশোধে বাধ্য থাকবে। এ অবস্থায় বিক্রেতার যদি এখনই অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন বিক্রেতা এই বিনিময় বিলটিকে মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই যেকোনো ব্যাংকের কাছে বিক্রয় করে বিনিময় বিলের সমমূল্য থেকে কিছু কম যেমন: ৫,০০০ টাকার বিলে ৫% বাটার হারে ৪,৭৫০ টাকা নগদ সংগ্রহ করতে পারে।

সম্পদ সর্বাধিকরণ ফার্মের লক্ষ্য হওয়ার যৌক্তিকতা (Rationale Behind Wealth Maximization as The Goal of a Firm)

সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্যটি যে কোনো কোম্পানির মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যের দুর্বলতাগুলো দূর করে এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে মালিকের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্য অর্জনের বিষয়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে। তাই নিম্নোক্ত কারণগুলোর জন্য সম্পদ সর্বাধিকরণই কোম্পানির সর্বজনস্বীকৃত লক্ষ্য : (ক) স্পষ্ট ধারণা : সম্পদ সর্বাধিকরণ উদ্দেশ্যে মুনাফার ধারণার যে অস্পষ্টতা রয়েছে তা দূর করে সম্পদের একটি স্পষ্ট ধারণা এবং তা পরিমাপের পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অস্পষ্ট মুনাফার পরিবর্তে স্পষ্ট নিট নগদপ্রবাহকে পরিমাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। (খ) ঝুঁকি, সময় ও অর্থের সময়মূল্য বিবেচনা করা হয় : সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হলো, এটি কোনো ফার্মের নিট নগদ প্রবাহের সংখ্যাগত ও গুণগত দিকটি বিবেচনা করে। তাছাড়া নগদ প্রবাহের সময় মূল্যও বিবেচনা করা হয়, যা মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যে বিবেচনা করা হয় না। ( গ) শেয়ার মূল্যের ওপর গুরুত্ব : আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বই হচ্ছে মালিকের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণ। অর্থনৈতিক কল্যাণ তখনই সম্ভব যখন বিনিয়োগক...

সম্পদ সর্বাধিকরণ (Wealth Maximization)

একটি ফার্মের সম্পদ সর্বাধিকরণ বলতে ওই ফার্মের শেয়ারের মূল্য সর্বাধিকরণকে বা নিট বর্তমান মূল্য সর্বাধিকরণকে বোঝায়।  একটি ফার্মের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য লক্ষ্য হচ্ছে ওই ফার্মের শেয়ারহোল্ডারদের বা শেয়াবমালিকদের তথা ফার্মের সম্পদ সর্বাধিকরণ। এটি মুনাফা সর্বাধিকরণের লক্ষ্যের দুর্বলতাগুলো দূর করে সঠিকভাবে সম্পদের পরিমাপ করতে সম্ভব হয় বলে এ লক্ষ্যটি একটি সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত লক্ষ্য হিসেবে সর্বজনীনভাবে গৃহীত। এটি ফার্মের মুনাফা ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। ফার্মের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তার প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির পরিমাণ, শেয়ার মূল্য, লভ্যাংশ ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হয়। ।

লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল ( Dividend Equalization Fund)

কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানি থেকে সাধারণত নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ পেয়ে থাকে। এই লভ্যাংশ প্রদানের সাথে কোম্পানির সুনাম জড়িত। কোনো বছর মুনাফার পরিমাণ কম হলে সে বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এ অবস্থা ব্যবসার সুনামকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই যে বছর মুনাফা বেশি হয়, সে বছর নিট মুনাফার একটা অংশ লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিলে সরিয়ে রাখে, যাতে পরবর্তীতে যখন মুনাফা অপ্রতুল হয়, তখন এই তহবিল ব্যবহার করা যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট হারে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ প্রদান করতে পারে।

মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যের সমালোচনা (Criticism of Profit Maximization)

ছবি
মুনাফা সর্বাধিকরণ হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতার ফল। কিন্তু আংশিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মুনাফা সর্বাধিকরণকে কোম্পানির মূল লক্ষ্য বলা যায় না। উল্লিখিত সময়ে ফার্ম বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ছিল একান্ত ব্যক্তিগত। মালিক তাঁর নিজের অর্থনৈতিক কল্যাণেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, যা মুনাফা সর্বাধিকরণের মাধ্যমে অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু আধুনিক ব্যবসায় মালিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বেশ দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবস্থাপনা মালিকদের প্রতিনিধি হয়ে তাঁদের পক্ষে কার্য পরিচালনা করে থাকেন।  এই পরিবর্তিত পরিবেশে মালিক ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পড়েছে পেশাদার ব্যবস্থাপকদের উপর যাঁরা ব্যবসায়ের সম্পৃক্ত পক্ষের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার কাজ করে থাকে। অর্থাৎ, বর্তমান উন্নত ও আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশে মালিক, ভোক্তা, পাওনাদার, সরকার, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও উপরের স্তরের ব্যবস্থাপনার সকলের স্বার্থ রক্ষা করে মালিকের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন করাই হচ্ছে আর্থিক ব্যবস্থাপকের কাজ। তাই মুনাফা সর্বাধিকরণের উদ্দেশ্যকে একটি ফার্মের মূল, বাস্তব, যথোপযুক্ত ও মানবিক দিক থেকে সঠিক লক্ষ্য বলা যায় না। নিচে আরো কয়েকটি য...

মুনাফা সর্বাধিকরণ কেন ফার্মের লক্ষ্য হওয়া উচিত (Rationale Behind Profit Maximization as The Goal of a Firm)

ছবি
নিম্নোক্ত তিনটি কারণে মুনাফা সর্বাধিকরণকে কোম্পানির লক্ষ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। (ক) মুনাফা দক্ষতায় মাপকাঠি : আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুনাফা সর্বাধিকরণ কোম্পানির উদ্দেশ্যের মাপকাঠি বা নির্দেশক হিসেবে খুবই সহজ। মুনাফা একটা অর্থনীতির অর্থনৈতিক দক্ষতার পরিমাপক হিসেবে কাজ করে। (খ) সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার : অর্থনৈতিক সম্পদের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমেই মুনাফা সর্বাধিকরণ সম্ভব। অর্থাৎ মুনাফা সর্বাধিকরণ হলে অর্থনৈতিক সম্পদের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। (গ) সামাজিক কল্যাণ : মুনাফা সর্বাধিকরণের মাধ্যমে সঠিক সামাজিক কল্যাণ সম্ভব। বিনিয়োগকারী পায় মুনাফা এবং ভোক্তা পায় সন্তোষজনক দামে তার প্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সেবা। অন্যান্য অর্থনৈতিক সম্পদ ও সুষ্ঠুভাবে ব্যবহৃত হয় যা নঠিক সামাজিক কল্যাণেরই লক্ষ্য। এ কারণেই এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, মুনাফা সর্বাধিকরণ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্তের মূল মাপকাঠি।

মুনাফা সর্বাধিকরণ (Profit Maximization)

ছবি
কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাধারণত সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বা সেবা উৎপাদন করে তা বিতরণের মাধ্যমে সমাজের প্রয়োজন মেটায়। এ প্রক্রিয়ার পেছনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মালিকদের জন্য মুনাফা অর্জন এবং তা সর্বাধিকরণ (Maximization) করা।  মুনাফা সর্বাধিকরণের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আর্থিক ব্যবস্থাপক ওই ফার্মের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, অর্থায়ন সিদ্ধান্ত ও লভ্যাংশ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। পরিকল্পিত অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে দ্রব্যাদি বা সেবা প্রদান করা। কিন্তু বাজার অর্থনীতিতে অর্থাৎ, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সমাজের সদস্যদের জন্য স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের দ্রব্যাদি বা সেবা প্রদান করে মুনাফা অর্জন বা মুনাফা সর্বাধিকরণ বর্তমান আধুনিক ব্যবসা জগতে লাভার্জন ক্ষমতাকে একটি কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা হয়। এই দিক দিয়ে বিবেচনা করে মুনাফা সর্বাধিকরণ তখনই হবে যখন কোনো সম্পত্তি বা প্রকল্পে বিনিয়োগ করে সর্বাধিক অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতার মাধ্যমে কোম্পানির মালিকদের সর্বাধিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন সম্ভব। লাভজনক অনেক প্রকল্পের মধ্য থেকে সবচেয...

অবণ্টিত মুনাফা ও সঞ্চিতি তহবিল (Retained Earnings and Reserve Fund)

ছবি
নিট মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কারবারে বিনিয়োগ করা হয়, তা অবণ্টিত মুনাফা।  ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করার জন্য এই অবণ্টিত মুনাফা একটি তহবিলে আলাদা করে রাখলে তাকে বলা হয় সঞ্চিতি তহবিল। আবার ভবিষ্যতের কোনো আর্থিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যও এই সঞ্চিতি তহবিল সৃষ্টি করা যায়।

আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন সিদ্ধান্ত (Income or Financing Decision)

ছবি
আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন আয় সিদ্ধান্ত বলতে মূলত তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বুঝায়।  a অর্থায়ন সিদ্ধান্তের আওতায় তহবিল সংগ্রহের ভিন্ন উৎস নির্বাচন এবং এসব উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে অর্থায়ন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সাধারণত চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য স্বল্পমেয়াদি উৎস থেকে আর স্থায়ী ব্যয় নির্বাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত ব্যবসায় তহবিল সংগ্রহে মালিকপক্ষের নিজস্ব পুঁজি ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বড় কোম্পানিগুলো শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এই শেয়ারহোল্ডাররাই কোম্পানির মালিক। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণের মাধ্যমে তহবিলের যে অংশ সংগ্রহ করে, তার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ঋণের দায় বৃদ্ধি পায়, আবার মালিকপক্ষ হতে সংগৃহীত মূলধনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে মালিকপক্ষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সঠিক অর্থায়ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠান ঋণের দায় ও মালিকানা স্বত্বের মধ্যে লাভজনক ভারসাম্য সৃষ্টিতে সফল হয়।

ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত (Investment Decision)

ছবি
একজন আর্থিক ব্যবস্থাপককে যে সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হচ্ছে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, কোন কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে কোম্পানির উদ্দেশ্য অর্জনে সুবিধা হবে তা নির্ধারণ করা। সেজন্য প্রয়োজন হবে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আর বা মুনাফা পরিমাপ করা। যেহেতু প্রকল্প হতে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয় অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করতে হয়, সেহেতু সেখানে রয়েছে অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি। তাই কোনো বিনিয়োগ প্রকল্প মূল্যায়নে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয় ও ঝুঁকি বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণের নীতি বা ব্যবসায়ের বৈচিত্র‍্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন (Principles of Diversity)

ছবি
ব্যবসায়ের বৈচিত্র‍্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির মূল কথা হলো কোনো একটি বিশেষ প্রকল্পে অত্যধিক অর্থ বিনিয়োগ না করে একাধিক প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করে ঝুঁকি হ্রাস করা। কারণ ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা হ্রাসকরণ বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অপরিহার্য। তহবিল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ের পণ্য বা সেবা যতদূর সম্ভব বৈচিত্র্যপূর্ণ হলে ব্যবসায়ের ঝুঁকি বণ্টিত হয় ও হ্রাস পায়। প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। ফলে ব্যবসায়কে নানামুখী ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়।  এই ঝুঁকিগুলো বিভিন্ন কারণে সৃষ্টি হতে পারে। যেমন: অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন, বাজারে নতুন পণ্যের উপস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আকস্মিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি। এসব পরিবর্তনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা বা এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ব্যবস্থাপকদের পক্ষে সাধারণত সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকি বণ্টনের নীতি অনুসরণের ফলে অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতিতেও প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন সম্ভব। একজন ব্যবসায়ী যদি শুধু একধরনের পণ্যের ব্যবসা করে, তাহলে ব্যবসায়ের মুনাফা অর্জন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে ব্যবসায়ের প...

উপযুক্ততার নীতি (Hedging Principles)

ছবি
উপযুক্ততার নীতি  অর্থ সংগ্রহ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নীতির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, ব্যবসার চলতি সম্পত্তি স্বল্পমেয়াদি উৎস থেকে এবং স্থায়ী সম্পত্তি দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি উৎস থেকে সংস্থান করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবসার যে কোনো চলতি সম্পত্তি যেমন-মজুদপণ্যের অর্থায়ন করতে হলে এ নীতি অনুযায়ী অবশ্যই তা স্বল্পমেয়াদি কোনো উৎস যেমন-বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যবসায় ঋণ দিয়ে অর্থায়ন করা উচিত। অন্যদিকে ব্যবসার কোনো স্থায়ী সম্পত্তি যেমন- জমি, যন্ত্রপাতি প্রভৃতির জন্য অর্থায়ন দীর্ঘ বা মধ্যমেয়াদি যে কোনো উৎস যেমন- আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, বন্ড ও শেয়ার বিক্রয় ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থায়ন করা উচিত।

তারল্য বনাম মুনাফানীতি (Principles of Liquidity and Profitability)

ছবি
যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমেই মুনাফা অর্জন করা হয়। অর্থাৎ মূলধন বিনিয়োগ না করে বা কমিয়ে তারল্য বৃদ্ধি করা সম্ভব, তবে তাতে লাভের পরিমাণ কম হবে। আবার সমুদয় মূলধন বিনিয়োগ করলে তারল্য কমে যাবে। তাই এহেন পরিস্থিতিতে আর্থিক নির্বাহীগণ ব্যবসার তারল্য ও লাভ অর্জন ক্ষমতার মধ্যে সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে সম্পদের ব্যবস্থাপনা করে থাকে। এই তারল্যের সাথে ব্যবসার অর্জিত মুনাফার সম্পর্ক পরস্পরবিরোধী। তাই কাম্য পরিমাণ তারল্য ব্যবসায়ে অবশ্যই রাখতে হবে; অন্যথায় ব্যবসার চলতি দায় পরিশোধে অসুবিধা হবে। এমতাবস্থায় ব্যবসার তারল্য ও লাভ অর্জন ক্ষমতার মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় অবশ্যই প্রয়োজন। যেমন: একজন দোকানি তার প্রতিদিনের বিক্রয়লব্ধ নগদ আয় (তরল সম্পদ) সম্পূর্ণটাই কাঁচামাল ক্রয় ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয়ের কথা চিন্তা করে নিজের কাছে রেখে দিতে পারে অথবা সেই নগদ অর্থের কিছু অংশ কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য রেখে বাকিটা কোনো ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখতে পারে, যা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু সুদ/মুনাফা পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে দোকানিকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, নগদ অর্থ কী পরিমাণ নিজের কাছে রাখলে দৈনন্দ...

অর্থায়নের কার্যাবলি (Functions of Finance)

ছবি
(ক) আর্থিক পরিকল্পনা : অর্থায়নের প্রথম কাজ হলো আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে অর্থের প্রয়োজনীয়তার যে পরিকল্পনা করতে হয় তাকে আর্থিক পরিকল্পনা বলে। আর্থিক পরিকল্পনার সময় অর্থের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ, সময় ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে হয়। (খ) উৎস শনাক্তকরণ : আর্থিক পরিকল্পনা করার পর অর্থায়নের অন্যতম কাজ ওই প্রয়োজনীয় অর্থ কোন কোন উৎস থেকে পাওয়া যেতে পারে তা চিহ্নিতকরণ। এটা হতে পারে কোনো ব্যক্তি, বন্ধুবান্ধব বা কোনো আত্মীয়স্বজন, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বা অন্য কোনো বাহ্যিক কোনো উৎস থেকে। (গ) তহবিল সংগ্রহ : শনাক্তকৃত উৎস হতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা অর্থায়নের তৃতীয় কাজ। তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, শর্ত ও সময় বিবেচনা করতে হয়। এই সব নিয়ন-কানুন ও শর্ত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অর্থ এক বা একাধিক উৎস হতে সংগ্রহ করা অর্থায়নের অন্যতম কাজ। (ঘ) মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত : কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ...

কারবারি অর্থায়নের গুরুত্ব (Importance of Business Finance)

ছবি
বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক মুক্তবাজার ব্যবস্থায় মুনাফা অর্জনের জন্য প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক অর্থায়ন করতে হয়। সুচিন্তিত ও সুদক্ষ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার ব্যবহারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়। নিচের বিষয়সমূহ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাকে অধিক অর্থবহ করে তোলে। ক) ব্যবসায়িক মূলধন-সংকট : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন সম্পর্কিত ধারণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ বলে আর্থিক সংকট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই সংকটের জন্য কারবার প্রতিষ্ঠান সুচারুরূপে পরিচালনা করা একটি দুরূহ কাজ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল কেনা প্রয়োজন কিন্তু অর্থসংকটের জন্য সে যদি যথাসময়ে উপযুক্ত পরিমাণে কাঁচামাল কিনতে অপারগ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। অর্থায়ন-সংক্রান্ত ধারণা তাকে পরিকল্পনামাফিক যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ ও তার যথার্থ ব্যবহারে সহায়তা করে । খ) অনগ্রসর ব্যাংক ব্যবস্থা : উপরন্তু উন্নত ...

ব্যবসায় অর্থায়ন (Business Finance)

ছবি
অর্থায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরন হচ্ছে ব্যবসায় অর্থায়ন বা বিজনেস ফাইন্যান্স। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে গঠিত সংগঠনকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলা হয়।  ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য যে অর্থায়ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, সেটিই ব্যবসার অর্থায়ন।

অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থসংস্থান (Finance of Non Trading Organisation)

ছবি
সমাজে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা থাকে, যা মানবকল্যাণে বা দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অর্থ বা অর্থের সমতুল্য পণ্য বা সেবার প্রয়োজন আছে এবং সেই অর্থের দক্ষ ব্যবস্থাপনারও প্রয়োজন আছে। এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন যে ভূমিকা রাখে তা হচ্ছে অর্থ ও অর্থ সমতুল্য সম্পদ সংগ্রহের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সেবামূলক উদ্দেশ্যকে সফল করা।  উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি এতিমখানা মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নয়। তবে এটিরও অর্থের প্রয়োজন আছে। বিভিন্ন অনুদানের মাধ্যমে এরা অর্থ সংগ্রহ করে। সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করা হয় এতিমদের বিভিন্ন উন্নয়নে। ফলে অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং উদ্দেশ্য অর্জনে এর যথাযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত করাই অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের মূল উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন (International Finance)

ছবি
আন্তর্জাতিক অর্থায়নে আমদানি ও রপ্তানির খাতগুলো নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। বাংলাদেশ প্রধানত আমদানিনির্ভর দেশ। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী, কাঁচামাল, মেশিনারিজ, ঔষধ, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।  অপরপক্ষে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাতদ্রব্য, তৈরি পোশাক, কৃষিজাত দ্রব্য ইত্যাদি রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানি হতে আমদানি বেশি করতে হয় বলে প্রতিবছর বিরাট অংকের বাণিজ্যঘাটতি দেখা যায়। এই ঘাটতি পূরণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স বিশেষ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নে আমদানি ও রপ্তানি খাতসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং এ সংক্রান্ত ঘাটতি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় তা আলোচনা করা হয়।

সরকারি অর্থায়ন (Public Finance)

ছবি
প্রতিটি সরকারের একটি অর্থ ব্যবস্থাপনা আছে। একটি সরকারের প্রেক্ষাপটে তার বার্ষিক ব্যয় কোন কোন খাতে কী পরিমাণে হবে এবং সেই অর্থ কোন কোন উৎস থেকে সংগ্রহ করা যাবে, তা সরকারি অর্থায়নে আলোচনা করা হয়। সরকারকে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অনেক খাতসমূহে অর্থ ব্যয় করতে হয়, যেমন: রাস্তাঘাট, সেতু, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা, সামাজিক অবকাঠামো ইত্যাদি।  এই ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়, যেমন: আয়কর, মূল্য সংযোজন কর, গিফট ট্যাক্স, আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক, সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড, ট্রেজারি বিল ইত্যাদি। সরকারি অর্থায়নে প্রথমে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী তহবিল সংগ্রহ করা হয়। সরকারি অর্থায়নের মূল লক্ষ্য সমাজকল্যাণ।

পারিবারিক অর্থায়ন (Family Financing)

ছবি
পারিবারিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবারের আয়ের উৎস ও পরিমাণ নির্ধারণ করে, সেই আয় কীভাবে ব্যয় করলে পরিবারের সদস্যদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল হয়, তা নির্ধারণ করা হয়। পরিবারের প্রয়োজনীয় অসংখ্য ব্যয়ের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়গুলো পূরণ করা হয়। পরিবারের আয় যদি ব্যয়ের জন্য যথেষ্ট না হয় তবে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি, বন্ধু-বান্ধব থেকে অর্থ ঋণ হিসাবে নেওয়া যায়। নিয়মিত আয়ের সাথে সংগতি রেখে নিয়মিত ব্যয়সমূহ নির্ধারণ করা হয়। স্থায়ী সম্পদ যেমন: টিভি, ফ্রিজ, গাড়ি, গৃহ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যায়। কিন্তু সংগৃহীত তহবিল সীমাবদ্ধ বলে এর উপযুক্ত ব্যবহার প্রয়োজন। যদি পরিবারের সংগৃহীত তহবিল প্রয়োজনীয় ব্যয়ের তুলনায় বেশি হয়, তবে সেটা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সঞ্চয় করা হয়।

অর্থায়নের ধারণা(The Concept of Finance)

ছবি
অর্থায়ন তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে। কোন উৎস থেকে কী পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করে, কোথায় কীভাবে বিনিয়োগ করা হলে কারবারে সর্বোচ্চ মুনাফা হবে, অর্থায়ন সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মালামাল বিক্রয় থেকে অর্থের আগমন হয়। কারবারে মালামাল প্রস্তুত ও ক্রয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের তহবিলের প্রয়োজন হয়।  যেমন: মেশিনপত্র ক্রয়, কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকদের মজুরি প্রদান ইত্যাদি। এগুলো তহবিলের ব্যবহার। তহবিলের এই প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনামাফিক তহবিল সংগ্রহ করতে হয়, যেন উৎপাদনপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। অর্থায়ন বলতে তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহার-সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়াকে বুঝায়।