পোস্টগুলি

মে, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আর্থিক ঝুঁকি (Financial Risk)

ছবি
আর্থিক ঝুঁকি বহিস্থ উৎস থেকে অর্থায়ন থেকে সৃষ্টি হয়। যে প্রতিষ্ঠানের ঋণের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল বেশি, সেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি বেশি। কারণ ঋণ মূলধনের জন্য সুদ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। পক্ষান্তরে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হলে মুনাফা বণ্টন বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং ঋণ মূলধন ব্যবহার করা হলে কারবারটি যদি লাভজনক না হয়, তখন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং ফলে কারবারটির বিলোপসাধন হতে পারে। ঋণ মূলধন ব্যবহার করলে সুদ এবং উক্ত অর্থ পরিশোধের দায় সৃষ্টি হয়।  উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোম্পানি যদি ১৫% হারে ৫০ লক্ষ টাকার বছর মেয়াদি বন্ড বিক্রয় করে, তাহলে প্রতিবছর ৭,৫০,০০০ টাকা সুদ এবং পাঁচ বছর শেষে ৫০ লক্ষ টাকা পরিশোধের দায় সৃষ্টি হয়। কোম্পানি সাধারণত ঋণকৃত মূলধন বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ দিয়ে ঋণকৃত মূলধনের দায় পরিশোধ করে। কোনো কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ না পেলে দায় পরিশোধের অক্ষমতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন দায় পরিশোধ করতে না পারলে ঋণ সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার...

ব্যবসায়িক ঝুঁকি ( Business Risk)

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সফলভাবে চালানোর জন্য বিভিন্ন রকম পরিচালনা ব্যয়ের সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকদের বেতন, অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদি। এসব পরিচালনা খরচ পরিশোধের অক্ষমতা থেকে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। কোনো কোম্পানির পরিচালনা ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা নির্ভর করে বিক্রয় থেকে আয়ের স্থিতিশীলতা এবং পরিচালনা খরচের মিশ্রণ অর্থাৎ স্থায়ী এবং চলতি খরচের অনুপাতের উপর। বিক্রয় আয়ে স্থিতিশীলতা না থাকলে অর্থাৎ বিক্রয়লব্ধ কোনো সময় আয় বেশি আবার কোনো সময় কম হলে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যয় মেটাতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আবার পরিচালন ব্যয়ে স্থায়ী খরচ যেমন: অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদির পরিমাণ বেশি হলে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয় । যদি কোম্পানিটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করে থাকে অর্থাৎ কোম্পানি কোনো বহিস্থ অর্থায়ন না করে তখন মুনাফাসংক্রান্ত এই অনিশ্চয়তাকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলে। এর উৎস হিসেবে বিক্রয়মূল্য পরিবর্তন, বিক্রয় পরিমাণ পরিবর্তন, উৎপাদনের উপকরণের মূল্য পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্থায়ী খরচের প্রবণতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কোম্পানি ঝুঁকি (Company Risk)

মোট ঝুঁকির  সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকিকে কোম্পানি ঝুঁকি বলে। ব্যবসায়িক ঝুঁকি, আর্থিক ঝুঁকি, তারল্য ঝুঁকি ইত্যাদি উৎস থেকে কোম্পানি ঝুঁকি সংঘটিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে উৎপাদন শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির অনশন বা ধর্মঘটের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে যে ক্ষতি সাধিত হয় তা শুধু উক্ত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করবে। যা অন্য কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করবে না। তাই বলা যায়, নির্দিষ্ট ঝুঁকি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় উক্ত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিতে কোম্পানি ঝুঁকি বলা হয়। একজন বিনিয়োগকারী বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে কোম্পানি ঝুঁকি পরিহার করতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানি ঝুঁকি পরিহারযোগ্য। তাই কোম্পানি ঝুঁকিতে পরিহারযোগ্য ঝুঁকিও বলে।

মোট ঝুঁকি (Total Risk)

সাধারণত যেকোনো কাজই ঝুঁকি নিয়ে শুরু করতে হয়। বিশেষ করে কোনো প্রকল্পে বা প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা এই ঝুঁকির পরিমাণ বিশ্লেষণ করে থাকি। যেহেতু বিনিয়োগের সাথে আয়ের বিষয়টি সম্পর্কিত সেহেতু এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকির পরিমাপ করা হয়। কোনো প্রকল্পে নির্দিষ্ট সময়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের ফলে প্রত্যাশিত আয় থেকে প্রকৃত আয় কম হলে বা ক্ষতির যে আশঙ্কা রয়েছে তা নির্ণয়ের প্রক্রিয়া বা পরিমাপকে মোট ঝুঁকি বলা হয়। আধুনিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে মোট ঝুঁকি হচ্ছে মার্কেট ঝুঁকি ও কোম্পানি ঝুঁকির সমষ্টিগত ফলাফল।

পোর্টফোলিও ও পোর্টফলিও ঝুঁকি (Portfolio and Portfolio Risk)

একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পে বিনিয়োগ না করে একাধিক সুবিধাজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ করাকে পোর্টফলিও বিনিয়োগ বলে। সকল বিনিয়োগকারীই সবসময় তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের নিরাপত্তা চায়। বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে চায়। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি একক বিনিয়োগকে অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে পৃথক করা দুষ্কর। তাই বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ পদ্ধতিকে এমনভাবে সাজাতে চায় যেন উক্ত প্রকল্পে ঝুঁকির পরিমাণ ন্যূনতম হয়। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীগণ কোনো নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ না করে একাধিক খাতে বিনিয়োগ করে থাকে। যাতে বিনিয়োগকারী ঝুঁকির মাত্রা হ্রাস করে এক বা একাধিক প্রকল্পের লাভ দ্বারা ঝুঁকি পুষিয়ে নিতে পারে। এ ধরনের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়ের সমন্বয়কে পোর্টফোলিওর পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি বা ঝুঁকির পোর্টফোলিও বলা হয়। আর বিনিয়োগকারীদের এ আচরণগত দিক বিশ্লেষণ করে পোর্টফোলিও তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে। ১৯৫২ সালে Henry Markowitz তার রচিত "Portfolio Selection" নামক প্রবন্ধে সর্বপ্রথম এ ধাঁরণার উদ্ভব ঘটান। মূলত একাধিক সম্পদ, সিকিউরিটিজ শেয়ারে বিনিয...

বাজার ঝুঁকি (Market Risk)

একটি দেশের আর্থিক বাজার উক্ত দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ ইত্যাদি বিভিন্ন উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। তার মধ্যে বিশেষ করে উক্ত দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকৃত সম্পদের মূল্য হ্রাসের যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয় তাকে বাজার ঝুঁকি বলে। সকল প্রকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই বাজার ঝুঁকি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাধারণ শেয়ার ও কোম্পানি বন্ড। সুদের হারের পরিবর্তন, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের হার, যুদ্ধ-বিগ্রহ, নানা প্রকার মন্দা ইত্যাদি ঝুঁকি হচ্ছে বাজার ঝুঁকির উৎস। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মূল্য উল্লেখিত উপাদানগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ঝুঁকির সৃষ্টি করে। একজন বিনিয়োগকারী ইচ্ছা করলেই বাজার ঝুঁকি পরিহার করতে পারে না। তাই বলা যায়, বাজার ঝুঁকি অপরিহারযোগ্য। যদি শেয়ার বাজার অধিক পরিমাণে হ্রাস পায় তাহলে অধিকাংশ শেয়ারের মূল্য হ্রাস পায়। আবার শেয়ারের বাজার বৃদ্ধি পেলে, অধিকাংশ শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পায়। মোটকথা শেয়ার বাজারের মূল্য ওঠা-নামার মধ্য দিয়েই বাজার ঝুঁকির সৃষ্টি...

একক ঝুঁকি (Unit Risk)

কোনো ব্যক্তি একটিমাত্র কোম্পানি বা ফার্মে বা প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসায়িক সুবিধা লাভ করার প্রাক্কালে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয় তাকে একক ঝুঁকি বলে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী যখন একটিমাত্র প্রকল্পে বা ফার্মে সম্পদ বিনিয়োগ করে তখন যে ঝুঁকি বহন করে তাকে একক ঝুঁকি বলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে জনাব সোহেল  রবি কোম্পানির কিছু শেয়ার ক্রয় করেছেন। তিনি ক্রয়কৃত শেয়ার থেকে ২০% লাভ প্রত্যাশা করছেন। এ লক্ষ্যে তিনি এখানে ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কথা থাকে যে তিনি উক্ত ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে রাখলে বার্ষিক ১২% হারে নির্দিষ্ট সুদ পেতেন। এক্ষেত্রে যদি জনাব সোহেল শেয়ার বাজারের মূল্য উঠা-নামার সৃষ্ট ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন যা তিনি একাই বহন করবেন। কিন্তু তিনি ব্যাংকে টাকাটা জমা রাখলে প্রতিবছর তিনি উক্ত টাকার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ পেতেন, যা থেকে তিনি থাকতেন ঝুঁকিমুক্ত। তিনি অধিক লাভের প্রত্যাশায় শেয়ার বাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাই ঝুঁকির পরিমাণ যত বেশিই হোক তাকে একাই তা বহন করতে হবে। 

ঝুঁকির ধারণা (Concept of Risk)

আভিধানিক অর্থে ঝুঁকি বলতে আর্থিক ক্ষতি, বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে বোঝায়। মানুষের জীবনটাই অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও এটা ব্যতিক্রম নয়। ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত, ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারে না। ভবিষ্যতের এরূপ অনিশ্চিত ঘটনা থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। অনিশ্চিত কারণে ভবিষ্যতে ক্ষয়-ক্ষতি, আপদ-বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে ঝুঁকি বলে। আবার আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের ফলাফল লাভের সম্ভাবনাকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ প্রত্যাশিত আয়ের চেয়ে প্রকৃত আয় বেশিও হতে পারে, আবার কমও হতে পারে এমন সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।

ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা (Risk and Uncertainty)

যদিও অনিশ্চয়তা থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, সব অনিশ্চয়তা ঝুঁকি নয়। খারাপ কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কাই হচ্ছে ঝুঁকি। কিন্তু খারাপ কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কেমন তা যদি জানা না থাকে, তবে সেই অনিশ্চয়তাকে ঝুঁকি বলা যায় না।  অন্যভাবে বলা যায়, অনিশ্চয়তার যে অংশটুকু পরিমাপ করা যায় সে অংশকে ঝুঁকি বলা হয়। কিছু কিছু অনিশ্চয়তা আছে, যা পরিমাপ করা যায়না। উদাহরণস্বরূপ, একটি কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তার মৃত্যু হতে পারে, এটা একটা অনিশ্চয়তা, কিন্তু এই অনিশ্চয়তাকে পরিমাপ করা যায় না। ফলে এই রকম অনিশ্চয়তাকে ঝুঁকি বলা যায় না। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি পরিমাপ করা যায় বলে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে ঝুঁকির পরিমাণ কমানো যায়। কিন্তু অনিশ্চয়তাকে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে কমানো বা পরিহার করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, ভূমিকম্পের কারণে কোনো কোম্পানির অফিস দালান ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু ভূমিকম্প কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে নেই বলে এই অনিশ্চয়তাকে কোম্পানি পরিহার করতে পারে না। পক্ষান্তরে, আগামী বছর কোম্পানির বিক্রয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা একটি ঝুঁকি। কারণ, এই ঝুঁকি পরিমাপ করা যায় এ...

ঝুঁকির ধারণা (Concept of Risk)

আভিধানিক অর্থে ঝুঁকি বলতে আর্থিক ক্ষতি, বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে বোঝায়। মানুষের জীবনটাই অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও এটা ব্যতিক্রম নয়। ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত, ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারে না। ভবিষ্যতের এরূপ অনিশ্চিত ঘটনা থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। অনিশ্চিত কারণে ভবিষ্যতে ক্ষয়-ক্ষতি, আপদ-বিপদ বা কিছু হারানোর আশঙ্কাকে ঝুঁকি বলে। আবার আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের ফলাফল লাভের সম্ভাবনাকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ প্রত্যাশিত আয়ের চেয়ে প্রকৃত আয় বেশিও হতে পারে, আবার কমও হতে পারে এমন সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।

৬৯ বিধি (Rule-69)

Rule-69 ও Rule-72-এর মতো একটি অভিজ্ঞাতালব্ধ হাতুড়ে পদ্ধতি। যার সাহায্যে আরো সঠিকভাবে দ্বিগুণ হওয়ার সময় নির্ণয় করা হয়। তবে Rule-72 এবং Rule-69 উভয়ই সময় দিগুণ হওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা লব্ধ সূত্র হলেও Rules 69 বেশি কার্যকর । এই Rule অনুযায়ী দিগুণ হওয়ার সময়ের সূত্র, ০.৩৫ + (৬৯÷i) [i= সুদের হার] যাদি সুদের হার ১২% হয় তবে দ্বিগুণ হতে সময় লাগবে ০.৩৫ +(৬৯÷১২)= ৬.১০ বছর

৭২ বিধি (Rule - 72)

বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই জানতে চায় কত সময়ে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ সুদসহ দ্বিগুণ হবে। এটা সাধারণত Future value of interest factor table ব্যবহার করে নির্ণয় করা যায়। অনেক সময় দ্রুত হিসাব করার ক্ষেত্রে এই টেবিল পদ্ধতি ব্যবহার করে সুদ নির্ণয় করা বেশ ঝামেলাপূর্ণ হয়। এই অবস্থায় অভিজ্ঞতালব্ধ বা হাতুড়ে প্রণালি ব্যবহার করে দ্রুত সুদাসল দ্বিগুণ হবে কত সময়ে তা নির্ণয় করা যায়। এই পদ্ধতিটির নাম হচ্ছে Rule-72 বা '৭২’ বিধি।  '৭২’-এর নিয়ম অনুযায়ী ৭২ কে সুদের হার দিয়ে ভাগ করলে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হওয়ার সময় পাওয়া যাবে। পক্ষান্তরে, ৭২ কে সময় দিয়ে ভাগ করলে সুদের হার পাওয়া যাবে। সুদের হার ১২% হলে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হতে সময় লাগবে। ৭২÷১২ = ৬ বছর। আবার যদি ৬ বছরে দ্বিগুণ হতে হয় তবে সুদের হার হবে ৭২÷৬= ১২%।

বাট্টাকরণ ও বর্তমান মূল্য (Discounting and Present value)

বাট্টাকরণ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার সাহায্যে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর অর্জিত মোট টাকার বর্তমান মূল্য কত তা বের করা যায়। বাট্টাকরণ আসলে চক্রবৃদ্ধির ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়া। চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতিতে ১০০ টাকা ১০% হারে ১ বছর পর হবে ১১০ টাকা এবং দুই বছর পরে হবে ১২১ টাকা। তেমনি এক বছর পরের ১১০ টাকার ১০% হার বাটার বর্তমান মূল্য হবে ১০০ টাকা— এটি হলো বাটাকরণ। এ ব্যাপারে চক্রবৃদ্ধির ঠিক উল্টো প্রক্রিয়া বা সূত্র ব্যবহার করতে হয়।

অর্থের সময়মূল্যের কারণ/অর্থের সময় মূল্য পছন্দের কারণ (Causes of Time Value of Money)

অর্থের সময়মূল্য পছন্দের পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ : (ক) ভোগ অগ্রাধিকার : সব মানুষই ভোগের ক্ষেত্রে বর্তমানকে অগ্রাধিকার দেয়। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনো একসময়ের চেয়ে এখনই বা আজই ভোগ করার সুযোগ সবাই সদ্ব্যবহার করতে চায়।  (খ) ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা : ভবিষ্যৎ সব সময়ই অনিশ্চিত। তাই ভবিষ্যতে সমপরিমাণ টাকার ক্রয়ক্ষমতা একই থাকবে কি না বা দেশের পরিস্থিতি বর্তমানের মতো থাকবে কি না তা অনিশ্চিত। (গ) বিনিয়োগের সুযোগ : অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকে। তাই বর্তমানে নগদ অর্থ হাতে পেতে সকলেই চায়। (ঘ) মুদ্রাস্ফীতি : সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সাধারণত অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। এর মূল কারণ মুদ্রাস্ফীতি। তাই ভবিষ্যতে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের ফলে যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে তা এড়ানোর জন্য সবাই বৰ্তমান প্রাপ্তি পছন্দ করেন।

অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য ও বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি (Future value of money and Annual Compounding)

সুদের হার শতকরা ১০ ভাগ হলে এখনকার ১০০ টাকা, আগামী বছরের ১১০ টাকা এবং ২ বছর পরের ১২১ টাকার সমান মূল্য বহন করে। এই ১০০ টাকাকে বলা হয় বর্তমান মূল্য এবং ১১০ ও ১২১ টাকাকে বলা হয় ভবিষ্যৎ মূল্য।  আর এখানে যে প্রক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়েছে, তাকে বলা হয় চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি। এখানে লক্ষণীয় যে এক বছর পরে ১১০ টাকা ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে আসল ১০০ টাকা ও সুদ ১০% হারে ১০ টাকা। একই ভাবে দ্বিতীয় বছর আরও ১০ টাকা সুদ হলে দ্বিতীয় বছরে ভবিষ্যৎ মূল্য হওয়া উচিত ১২০ টাকা কিন্তু দ্বিতীয় বছরের ভবিষ্যৎ মূল্য হয়েছে ১২১ টাকা। এর কারণ দ্বিতীয় বছরের শুরুতে আসল ধরা হয় ১১০ টাকা এবং তাতে করে দ্বিতীয় বছরে ১০% হারে সুদ হয় ১১ টাকা। এভাবে প্রথম বছরের সুদাসলকে দ্বিতীয় বছরের আসল ধরে তার উপর দ্বিতীয় বছরের সুদ ধার্য করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি। চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতিতে প্রতিবছর সুদাসলের উপর সুদ ধার্য করে ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ সুদ আসলের উপর যে সুদ প্রদান করা হয় তাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলা হয়। কিন্তু সরল সুদের ক্ষেত্রে কেবল আসলের উপর সুদ গণনা করা হয়।

অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য (Future value of money)

এখনকার ১০০ টাকা ভবিষ্যতের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না অর্থাৎ এখনকার ১০০ টাকা কোথাও বিনিয়োগ করে অতিরিক্ত যে অর্থ আশা করি তাকে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বলে।  উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুদের হার শতকরা ১০ ভাগ হলে এখনকার ১০০ টাকা, আগামী বছরের ১১০ টাকা এবং ২ বছর পরের ১২১ টাকার সমান মূল্য বহন করে। এই ১০০ টাকাকে বলা হয় বর্তমান মূল্য এবং ১১০ ও ১২১ টাকাকে বলা হয় ভবিষ্যৎ মূল্য।

সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost)

কোনো একটি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করলে অন্য কোনো প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে ত্যাগ করতে হয়। যাকে অর্থায়নে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বলা হয়।  সুতরাং অর্থের সময়মূল্যের সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে এই সুযোগ ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: তোমার এলাকায় জমির মূল্য ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়। পক্ষান্তরে সোনালী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাবে সুদের হার ধরা যাক শতকরা ৮ ভাগ। জমি কিনলে সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে না, তাই জমি ক্রয়ের সুযোগ ব্যয় এ ক্ষেত্রে ৮%। এ ক্ষেত্রে আমরা সূত্র  ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে জমি কেনা উচিত, নাকি সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা উচিত। এ ব্যাপারে একটি সহজ এবং মোটামুটি সঠিক পদ্ধতি ‘রুল ৭২' নামে পরিচিত। টাকা দ্বিগুণ হলে ৭২-কে মেয়াদ দিয়ে ভাগ করলে সুদের হার পাওয়া যায়, আবার ৭২-কে সুদের হার দিয়ে ভাগ করলে মেয়াদ পাওয়া যায়। জমির মূল্য যেহেতু ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়। সুতরাং সুদের হার (৭২/১০) বা ৭.২%। সুতরাং জমি ক্রয় না করে সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা যুক্তিসংগত।

অর্থের সময়মূল্যের গুরুত্ব (Importance of time value of money)

ব্যবসায়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সাথেই অর্থের আন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহ জড়িত থাকে। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এই আন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের মেয়াদভিত্তিক বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ফলে অর্থের সময়মূল্যের গুরুত্ব বিবেচনায় বলা যায়- ক) সুযোগ ব্যয় : কোনো একটি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করলে অন্য কোনো প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে ত্যাগ করতে হয়। যাকে অর্থায়নে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বলা হয়। সুতরাং অর্থের সময়মূল্যের সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে এই সুযোগ ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: তোমার এলাকায় জমির মূল্য ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়। পক্ষান্তরে সোনালী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাবে সুদের হার ধরা যাক শতকরা ৮ ভাগ। জমি কিনলে সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে না, তাই জমি ক্রয়ের সুযোগ ব্যয় এ ক্ষেত্রে ৮%। এ ক্ষেত্রে আমরা সূত্র  ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে জমি কেনা উচিত, নাকি সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখা উচিত। এ ব্যাপারে একটি সহজ এবং মোটামুটি সঠিক পদ্ধতি ‘রুল ৭২' নামে পরিচিত। টাকা দ্বিগুণ হলে ৭২-কে মেয়াদ দিয়ে ভাগ করলে সুদের হার পাওয়া যায়, আবার ৭২-কে সুদের হার ...

অর্থের সময়মূল্যের ধারণা (Concept of time value of money)

এখনকার ১০০ টাকা আর পাঁচ বছর পরের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না, এখনকার ১০০ টাকা অধিকতর মূল্যবান। এটাই অর্থের সময়মূল্য ধারণা। অর্থের সময়মূল্যের মূল কারণ সুদের হার।  মনে কর, তুমি তোমার বন্ধুর কাছে ১০০ টাকা পাও, এমতাবস্থায় সে বলল ১০০ টাকা এখন না পরিশোধ করে ১ বছর পর পরিশোধ করবে। অর্থের সময়মূল্য বলে যে এখনকার ১০০ টাকা আর এক বছর পরের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না। ধরা যাক, সুদের হার শতকরা ১০ ভাগ অর্থাৎ তুমি যদি ব্যাংকে এখন ১০০ টাকা জমা রাখ, তবে আগামী বছর ব্যাংক তোমাকে ১১০ টাকা দেবে। সুতরাং এখনকার ১০০ টাকা এবং আগামী বছরের ১১০ টাকা অর্থের সময়মূল্য অনুযায়ী সমান মূল্য বহন করে। এটাই অর্থের সময় মূল্য।