পোস্টগুলি

জুন, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি (Inflation Risk)

ছবি
মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিকে ক্রয় ক্ষমতা ঝুঁকি বলে। মুদ্রাস্ফীতির সাথে ক্রয় ক্ষমতার বিপরীত সম্পর্ক। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মূল্য স্তর বৃদ্ধি পায় এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। সুতরাং মুদ্রাস্ফীতি বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহকে প্রভাবিত করে।  যেমন : একজন বিনিয়োগকারী ব্যাংকে ১০% সুদে ১,০০০ টাকা জমা রাখল। বছর শেষে সে সুদসহ ব্যাংক থেকে ১,১০০ টাকা পাবে। দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার যদি ১০% হয় তবে ওই বিনিয়োগকারীর প্রকৃতপক্ষে কোনো লাভ হয় নাই। কারণ ১০% মুদ্রাস্ফীতির কারণে সে যেই পরিমাণ পণ্য এক বছর আগে ১,০০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারতেন আজ সেই পরিমাণ পণ্য কিনতেও ১,১০০ টাকা লাগবে। দেশে যদি মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়তে থাকে বিনিয়োগকারীরা তখন বিনিয়োগ থেকে মুদ্রাস্ফীতির হার অপেক্ষা অধিক মুনাফার হার প্রত্যাশা করে।

সুদ হার ঝুঁকি (Interest Rate Risk)

ছবি
ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তনের ফলে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয় তাকে সুদ হার ঝুঁকি বলে । বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে বন্ডের মূল্য হ্রাস পাবে। অর্থাৎ‍ বিনিয়োগের মূল্য কমে যাবে।  কারণ সুদের হার এবং বন্ডের মূল্যের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিনিয়োগের বা সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পাওয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে তাকে সুদ হার ঝুঁকি বলে ।

তারল্য ঝুঁকি (Liquidity Risk)

ছবি
বিনিয়োগকৃত সিকিউরিটিসমূহ দ্রুত নগদ অর্থে রূপান্তর করতে যে ঝুঁকির উদ্ভব হয় তাকে তারল্য ঝুঁকি বলে। অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থের প্রয়োজনে তাদের বিনিয়োগকৃত সিকিউরিটিসমূহ বাজারে বিক্রয় করে সহজেই একে নগদ অর্থে রূপান্তর করে থাকেন।  যে আর্থিক সম্পদ যত দ্রুত নগদে রূপান্তর করা যায়, সেই সম্পদ তত তরল। বিনিয়োগকারীরা ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে সিকিউরিটিসমূহ বিক্রয় করতে চায়। কিন্তু অনেক সময় সিকিউরিটিসমূহ ক্রয় মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে বাজারে বিক্রয় করতে হয়। তারল্য বাজারের আকার এবং পরিধি বা গভীরতা দ্বারা প্রভাবিত হয়। বাজারের আকার এবং গভীরতা যত বেশি হবে তারল্য ঝুঁকি তত কম হবে। কারণ বিনিয়োগকারীরা সহজেই এবং যুক্তিসঙ্গত মূল্যে তাদের সিকিউরিটিসমূহ নগদ অর্থে রূপান্তর করতে পারেন।

ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও আর্থিক ঝুঁকি (Business Risk and Financial Risk)

ছবি
কারবার প্রতিষ্ঠান তার প্রত্যাশিত মুনাফার চাইতে কম মুনাফা করা অথবা লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় ব্যবসায় ঝুঁকি। ব্যবসায়িক ঝুঁকি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার সাথে জড়িত। এটি বিভিন্ন উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয় যেমন: বিক্রয়ের পরিমাণ, একক প্রতি বিক্রয় মূল্য, কাঁচামাল ব্যয়, প্রতিযোগিতা, সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও সরকারি আইনকানুন। ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলতে অনিশ্চয়তার কারণে কম মুনাফা বা ক্ষতির সম্ভাবনা নির্দেশ করে, যেমন-ভোক্তার রুচি বা পছন্দের পরিবর্তন, ধর্মঘট, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, সরকারি নীতির পরিবর্তন, অপ্রচলন ইত্যাদি। কোনো ফার্মের আর্থিক দায় পরিশোধ করার অক্ষমতাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে। কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পদে অর্থায়নের জন্য যখন ঋণকৃত তহবিল ব্যবহার করে তখনই আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের যখন ঋণের পরিমাণ অধিক হয় তখন নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিষ্ঠানের আসলের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের ব্যর্থতার জন্য জার্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।