পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শেয়ারের সেকেন্ডারি বা মাধ্যমিক বাজার (Secondary Market of Share)

মাধ্যমিক বাজার প্রাথমিক বাজারের ইস্যুকৃত  শেয়ার ও বন্ড যখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে বাজারে কেনাবেচা হয় তখন ঐ বাজারকে মাধ্যমিক বাজার বলা হয়।  প্রাথমিক বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করতে হলে নির্দিষ্ট ফরমে দরখাস্ত করতে হবে। দরখাস্ত করলেই শেয়ার পাওয়া যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু মাধ্যমিক বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করতে হলে দরখাস্ত করার প্রয়োজন হয় না এবং ব্রোকারেজ হাউলের মাধ্যমে যেকোনো বিনিয়োগকারী এবং ইচ্ছামতো শেয়ার বা বন্ড ক্রয় করতে পারবে।

শেয়ারের প্রাথমিক বাজার (Primary Market of Share)

কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যখন প্রাথমিকভাবে বাজারে তাদের শেয়ার বা বড় বিক্রয় করে তখন ঐ বাজারকে প্রাথমিক বাজার বলে।  নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অধিক মূলধন সংগ্রহ এবং সেকেন্ডারি বাজারে প্রবেশ করাই এ বাজারের মূল উদ্দেশ্য।

শেয়ার বাজার (Share Market)

যে বাজারের মাধ্যমে কোম্পানি শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করে সেই বাজারকে শেয়ার বাজার বলা হয়।  একজন বিনিয়োগকারীদুটি উপায়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। যেমন— প্রাথমিক বাজার ও মাধ্যমিক বাজার। প্রাথমিক বাজারে কোম্পানি শেয়ার, বন্ড ইত্যাদি বিক্রির প্রথম প্রস্তাব করে। আর মাধ্যমিক বাজারে প্রাথমিক বাজারের ইস্যুকৃত শেয়ার, বন্ড ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব করে।

বন্ড ও ইকুইটি বাজার (Bond and Equity Market)

আর্থিক বাজারে যে সকল আর্থিক সম্পদ বা হাতিয়ার লেনদেন হয় তাদের মধ্যে (ক) ঋণপত্র বা বন্ড (খ) শেয়ার বা ইকুইটি এই দুই ধরনের আর্থিক সম্পদই প্রধান। ঋণপত্র বা বন্ড বিক্রয় করে কোনো কোম্পানি নির্দিষ্ট সুদের হারে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে। যারা এই ঋণ প্রদান করে তারা কোম্পানির পাওনাদার। পক্ষান্তরে, শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি যে মূলধন সংগ্রহ করে তাকে কোম্পানির ইকুইটি বা নিজস্ব মূলধন বলে। যারা এই শেয়ার ক্রয় করে তাদের শেয়ারহোল্ডার বলে এবং তারা কোম্পানির মালিক। “বন্ড ও ইকুইটি বাজার” বলতে ঐ সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয় যারা বন্ড ও শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকেন। এই বাজারের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, বিভিন্ন বাণিজ্যক ব্যাংক, সাধারণ বিনিয়োগকারী ইত্যাদি।

মুদ্রা বাজার (Money Market)

মুদ্রা বাজার আর্থিক বাজারের ওই অংশ যেখানে স্বল্পমেয়াদের লেনদেন হয়। অন্যভাবে বলা যায় মুদ্রাবাজার ওইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় যেখানে মেয়াদের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য আর্থিক সম্পদের যেমন: নগদ অর্থ স্বল্পমেয়াদি জমা, ঋণ, বাণিজ্যিক পত্র ইত্যাদির লেনদেন হয়। মূলধন বাজারের সকল বৈশিষ্ট্য মুদ্রাবাজারে বিদ্যমান শুধু মেয়াদ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ব্যতিক্রম।

পুঁজিবাজার/মূলধন বাজার (Capital Market)

মূলধন বাজার আর্থিক বাজারের ওই অংশ যেখানে দীর্ঘমেয়াদের জন্য অর্থ ও আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়।  একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়; যেমন— নগদ অর্থ, শেয়ার, ডিবেঞ্চার, স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ইত্যাদি। এসব আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয় সাধারণত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। মূলধন বাজার হচ্ছে ওইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় যেখানে দীর্ঘমেয়াদের ভিত্তিতে আর্থিক সম্পদের যেমন- শেয়ার, ডিবেঞ্চার ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের লেনদেন হয়। অর্থাৎ “মূলধন বাজার হলো একটি দেশের উদ্বৃত্ত শ্রেণি ও ঘাটতি শ্রেণির একটি সমাবেশ বা যোগাযোগ নেটওয়ার্ক যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেন করে ব্যবসায়, বাণিজ্য, শিল্প ও অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে।” সুতরাং আধুনিক মূলধন বাজার বলতে এখন আর কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায় না, বরং মূলধন বাজার বলতে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে বোঝানো হয়, যার মাধ্যমে মূলধন বাজারের বিভিন্...

আর্থিক বাজারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Financial Market)

একটি আর্থিক বাজারের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয় : ১. ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান : আর্থিক বাজার এমনই একটা ব্যবস্থা, যেখানে সব সময় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমাবেশ এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়। ২. আর্থিক সম্পদের লেনদেন : আর্থিক বাজারে সমাজের উদ্বৃত্ত শ্রেণি এবং ঘাটতি শ্রেণির মধ্যে আর্থিক সম্পদ যেমন- নগদ অর্থ, ট্রেজারি বিল, সার্টিফিকেট অব ডিপোজিট, বাণিজ্যিক পত্র, শেয়ার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদির লেনদেন হয়ে থাকে। ৩. মেয়াদ : আর্থিক বাজারে সর্বদাই দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়। ৪. ঘাটতি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণি বিদ্যমান : আর্থিক বাজারে দুটি শ্রেণি বিদ্যমান-ঘাটতি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণি। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উদ্বৃত্ত শ্রেণির অর্থ ঘাটতি শ্রেণির কাছে পৌঁছে দিয়ে তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করাই আর্থিক বাজারের প্রধান কাজ। ৫. বিনিয়োগ সুবিধা সৃষ্টি : আর্থিক বাজার ঘাটটি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণির জন্য বিভিন্ন বিনিয়োগ সুবিধার সৃষ্টি করে তাদের পছন্দমতো সুযোগ গ্রহণের নিশ্চয়তা প...

আর্থিক বাজার (Financial Market)

সাধারণভাবে আর্থিক বাজার হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা যা কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি, যেখানে অর্থ ও বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ (স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি) কেনা-বেচা হয়। আর্থিক বাজারে দুটি শ্রেণি বিদ্যমান— একটি উদ্বৃত্ত শ্রেণি এবং অপরটি ঘাটতি শ্রেণি। উদ্বৃত্ত শ্রেণি তাদের টাকা বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রেখে বা ঘাটতি শ্রেণি কর্তৃক সৃষ্ট বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ ক্রয় করে তাদের টাকা বিনিয়োগ করে।  অপর দিকে ঘাটতি শ্রেণি বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণ করে বা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ বিক্রি করে তাদের প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহ করে। এই ঋণ প্রদান ও গ্রহণ বা আর্থিক সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো স্থানে হতে পারে বা একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও হতে পারে। এই নির্দিষ্ট স্থান বা যোগাযোগ নেটওয়ার্ককেই বলা হয় আর্থিক বাজার। অন্যভাবে বলা যায় আর্থিক বাজার হলো কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি যারা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদের লেনদেন করে থাকে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন (Long term Finance)

সধারনত ৫ বছর বা তার অধিক সময়ের জন্য যে অর্থায়ন করা হয় তাকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে।  দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মেয়াদ হচ্ছে ৫ বছর থেকে ঊর্ধ্বে যেকোনো সময়কাল পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের আকার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি উৎসের তুলনায় বড় হয়, ফলে এই তহবিল বিভিন্ন স্থায়ী সম্পত্তি যেমন: ভূমি, দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘমেয়াদি তহবিল ঋণের মাধ্যমে গৃহীত হলে তা চুক্তি মোতাবেক পরিশোধ করতে হয়। আর যদি শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হয়, তবে তা মালিকের তহবিল হিসেবে বিবেচিত হয় বলে ব্যবসা বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হয় না। একমালিকানা ও অংশীদারি কারবারে মালিকের নিজস্ব মূলধনও সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবহার করা যায়। শেয়ার  লভ্যাংশ করযোগ্য কিন্তু ঋণপত্রের সুদ করযোগ্য নয়। এ কারণে শেয়ার বিক্রয় করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করলে যে খরচ হয়, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিলে অপেক্ষাকৃত কম খরচ হয়।

মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন (Mid term Finance)

এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সংগৃহীত তহবিল কে মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন বলে।  একটি প্রতিষ্ঠান মধ্যমমেয়াদি তহবিল ব্যবহার করে ব্যবসার চলমান মূলধনের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মিটায়। এই তহবিলের খরচ বা সুদের হার স্বল্পমেয়াদি তহবিলের খরচ হতে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের খরচ হতে কম হয়।

স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন (Short term Finance)

১ বছর বা  কম সময়ের জন্য সংগৃহীত তহবিলকে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বলে। স্বল্পমেয়াদ বলতে ১ বছরের কম সময়কে বুঝানো হয়।  একটি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ অর্থায়ন মূলত স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে সংগ্রহ করা হয়, যা এক বছর বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য। স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কিছু সুবিধা থাকে। স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে অর্থ সংস্থানের খরচ তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুইই হতে পারে। যেমন: বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে গৃহীত ঋণের জন্য স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলকভাবে সুদের হার বেশি প্রদান করতে হয়। আবার বিভিন্ন ঋণমুক্ত উৎস যেমন: বাকিতে পণ্য ক্রয়, বকেয়া মজুরির মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সময়ের জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারে। যার কোনো মূলধনি খরচ নেই। স্বল্পমেয়াদি অর্থ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে দ্রুততম ও সরল প্রক্রিয়া। পক্ষান্তরে, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থ আদান-প্রদানের জন্য অনেক সময় ব্যয় ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। যেসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য দ্রব্যের চাহিদা এক বছর সময়ের মধ্যে অতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে সেসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও অর্থায়নের দ...

মজুত মাল বন্ধকীকরণ (Mortgage of Stocks)

স্বল্পমেয়াদি অর্থ সংস্থানের জন্য মজুতপণ্য ব্যবহার করা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থ সংস্থানের জন্য কোনো স্বনামধন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তার মজুতপণ্য জামানত বা বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করাকে মজুত মালের মাধ্যমে অর্থসংস্থান বলা হয়। এ ধরনের অর্থ সংস্থানের ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ ফেরত না দেয়া পর্যন্ত মজুতপণ্যের উপর ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার বজায় থাকে।

বাণিজ্যিক পত্র (Commercial Paper)

বাজারে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এমন কম্পানিগুলো স্বল্পমেয়াদি তহবিলের জন্য অবহারে যে জামানতবিহীন দলিল ইস্যুর মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে তাকে  বাণিজ্যিক পত্র  বলে। কারবারি প্রতিষ্ঠান অর্থায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়ান্তে লাভসহ আসল অর্থ ফেরত প্রদানের অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে এই বাণিজ্যিক পত্র (Commercial Paper) বিক্রয় করে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয়ে জামানত হিসাবে কাজ করে। সাধারণত যে সকল ব্যক্তির সাময়িক সময়ের জন্য কিছু অব্যবহার্য অর্থ থাকে, তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিকল্প হিসাবে এই বাণিজ্যিক পত্র ক্রয় করে। সাধারণত খ্যাতিমান ব্যক্তি, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, পেনশন তহবিল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয় করে সাময়িক সময়ের জন্য অর্থায়ন করতে পারে।

ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন বা ব্যাংক ওভার ড্রাফট (Bank Overdraft)

ব্যাংক জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনকে ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন বলে। স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণের একটি উৎস ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন। সব প্রতিষ্ঠানই মূলত চলতি হিসাবের মাধ্যমে পাওনা আদায় ও দেনা পরিশোধ করে থাকে।  এ ধরনের ব্যাংক হিসাব সাধারণত মক্কেলকে বা প্রতিষ্ঠানকে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সুযোগ প্রদান করে, তবে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ব্যাংক সীমাবদ্ধ করে দেয়। সাধারণত অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ঋণের সুদ প্রদান করতে হয়, কিন্তু এ ধরনের ঋণের সুদ শুধু যখন থেকে জমাতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ব্যবহার করা হয়, কেবল তখন থেকেই সুদ দিতে হয়। তবে এ ধরনের ঋণের সুদের হার অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে বেশি এবং এটি ব্যাংক চাওয়ামাত্রই ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হয়।

স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ (Short Term Bank Loan)

স্বল্প সময়ের জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ গ্রহণ করা হয় তাকে স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ বলে। স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ একটি প্রধান উৎস। এ ধরনের ব্যাংক ঋণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ান্তে সুদসহ আসল একসাথে পরিশোধ করা হয়।  অনেক সময় ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ঋণের কিছু অংশ  বা সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধে উৎসাহ প্রদানের নিমিত্তে মোট পরিমাণের উপর কিছু ছাড় প্রদান করে। যেমন: একজন ঋণ গ্রহীতার ৬ মাস পর প্রদেয় ১০০০ টাকা যদি ৬ মাসের আগে পরিশোধ করে তবে ঋণগ্রহীতা ব্যাংককে ২% কম অর্থ প্রদান করতে পারে অর্থাৎ ঋণগ্রহীতা ব্যাংককে ৯৮০ টাকা প্রদান করবে। এছাড়া ঋণগ্রহীতা যদি নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার না করে ব্যাংক চাওয়া মাত্রই ঋণ পরিশোধের শর্তে ঋণ গ্রহণ করে, তবে সেটিকে চাহিবামাত্র প্রদেয় ঋণ বলা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের বিকল্প উৎস আছে তারা স্বল্প খরচে এই উৎস ব্যবহার করতে পারে।

প্রদেয় বিল (Bills Payable)

ব্যবসায়িক লেনদেন বেশির ভাগ বাকিতে হয়। তাই বাকিতে ক্রয়ের সময় ক্রয়ের বিপরীতে বিলের স্বীকৃতি দিলে তাকে প্রদেয় বিল বলে। প্রদেয় বিল এক প্রকার বিনিময় বিল। বিক্রেতার দৃষ্টিতে এটি প্রাপ্য বিল, যা ক্রেতার দৃষ্টিতে প্রদেয় বিল ও একটি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের উৎস। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যখন কাঁচামাল, উৎপাদনসামগ্রী ইত্যাদি বাকিয়ে ক্রয় করে, তখন সাময়িক সময়ের জন্য ব্যবসায়ে অর্থসংস্থান হয়। কারণ বাকিতে ক্রয়ের সুবিধা না পেলে নগদে পণ্য ক্রয় করতে অর্থের প্রয়োজন হতো, যার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদসহ ফেরত দিতে হতো।

প্রাপ্য বিল বাট্টাকরণ (Discounting Bills Receivable)

পণ্য যখন বাকিতে ক্রয় করা হয়, তখন ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বিক্রেতাকে একটি দলিলের মাধ্যমে এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে নির্দিষ্ট মেয়াদ (সাধারণত তিন মাস) শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পণ্য ক্রয় বাবদ পরিশোধ করবে। এই দলিলকে বিনিময় বিল বলা হয়। বিক্রেতার কাছে এই বিলটি একটি প্রাপ্য বিল। এই ধরনের বিল বাণিজ্যিক ব্যাংকে ভাঙ্গিয়ে বা বাট্টা করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা যায়।  ধরা যাক, একজন ক্রেতা জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ৫,০০০ টাকার পণ্যদ্রব্য বাকিতে ক্রয় করে বিক্রেতাকে বিনিময় বিল নামক দলিলে এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে, সে মার্চ ৩০ তারিখের মধ্যে বিক্রেতাকে ৫,০০০ টাকা পরিশোধে বাধ্য থাকবে। এ অবস্থায় বিক্রেতার যদি এখনই অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন বিক্রেতা এই বিনিময় বিলটিকে মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই যেকোনো ব্যাংকের কাছে বিক্রয় করে বিনিময় বিলের সমমূল্য থেকে কিছু কম যেমন: ৫,০০০ টাকার বিলে ৫% বাটার হারে ৪,৭৫০ টাকা নগদ সংগ্রহ করতে পারে।

সম্পদ সর্বাধিকরণ ফার্মের লক্ষ্য হওয়ার যৌক্তিকতা (Rationale Behind Wealth Maximization as The Goal of a Firm)

সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্যটি যে কোনো কোম্পানির মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যের দুর্বলতাগুলো দূর করে এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে মালিকের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্য অর্জনের বিষয়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে। তাই নিম্নোক্ত কারণগুলোর জন্য সম্পদ সর্বাধিকরণই কোম্পানির সর্বজনস্বীকৃত লক্ষ্য : (ক) স্পষ্ট ধারণা : সম্পদ সর্বাধিকরণ উদ্দেশ্যে মুনাফার ধারণার যে অস্পষ্টতা রয়েছে তা দূর করে সম্পদের একটি স্পষ্ট ধারণা এবং তা পরিমাপের পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অস্পষ্ট মুনাফার পরিবর্তে স্পষ্ট নিট নগদপ্রবাহকে পরিমাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। (খ) ঝুঁকি, সময় ও অর্থের সময়মূল্য বিবেচনা করা হয় : সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হলো, এটি কোনো ফার্মের নিট নগদ প্রবাহের সংখ্যাগত ও গুণগত দিকটি বিবেচনা করে। তাছাড়া নগদ প্রবাহের সময় মূল্যও বিবেচনা করা হয়, যা মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যে বিবেচনা করা হয় না। ( গ) শেয়ার মূল্যের ওপর গুরুত্ব : আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বই হচ্ছে মালিকের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণ। অর্থনৈতিক কল্যাণ তখনই সম্ভব যখন বিনিয়োগক...

সম্পদ সর্বাধিকরণ (Wealth Maximization)

একটি ফার্মের সম্পদ সর্বাধিকরণ বলতে ওই ফার্মের শেয়ারের মূল্য সর্বাধিকরণকে বা নিট বর্তমান মূল্য সর্বাধিকরণকে বোঝায়।  একটি ফার্মের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য লক্ষ্য হচ্ছে ওই ফার্মের শেয়ারহোল্ডারদের বা শেয়াবমালিকদের তথা ফার্মের সম্পদ সর্বাধিকরণ। এটি মুনাফা সর্বাধিকরণের লক্ষ্যের দুর্বলতাগুলো দূর করে সঠিকভাবে সম্পদের পরিমাপ করতে সম্ভব হয় বলে এ লক্ষ্যটি একটি সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত লক্ষ্য হিসেবে সর্বজনীনভাবে গৃহীত। এটি ফার্মের মুনাফা ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। ফার্মের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তার প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির পরিমাণ, শেয়ার মূল্য, লভ্যাংশ ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হয়। ।

লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল ( Dividend Equalization Fund)

কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানি থেকে সাধারণত নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ পেয়ে থাকে। এই লভ্যাংশ প্রদানের সাথে কোম্পানির সুনাম জড়িত। কোনো বছর মুনাফার পরিমাণ কম হলে সে বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এ অবস্থা ব্যবসার সুনামকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই যে বছর মুনাফা বেশি হয়, সে বছর নিট মুনাফার একটা অংশ লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিলে সরিয়ে রাখে, যাতে পরবর্তীতে যখন মুনাফা অপ্রতুল হয়, তখন এই তহবিল ব্যবহার করা যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট হারে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ প্রদান করতে পারে।

মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যের সমালোচনা (Criticism of Profit Maximization)

ছবি
মুনাফা সর্বাধিকরণ হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতার ফল। কিন্তু আংশিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মুনাফা সর্বাধিকরণকে কোম্পানির মূল লক্ষ্য বলা যায় না। উল্লিখিত সময়ে ফার্ম বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ছিল একান্ত ব্যক্তিগত। মালিক তাঁর নিজের অর্থনৈতিক কল্যাণেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, যা মুনাফা সর্বাধিকরণের মাধ্যমে অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু আধুনিক ব্যবসায় মালিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বেশ দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবস্থাপনা মালিকদের প্রতিনিধি হয়ে তাঁদের পক্ষে কার্য পরিচালনা করে থাকেন।  এই পরিবর্তিত পরিবেশে মালিক ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পড়েছে পেশাদার ব্যবস্থাপকদের উপর যাঁরা ব্যবসায়ের সম্পৃক্ত পক্ষের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার কাজ করে থাকে। অর্থাৎ, বর্তমান উন্নত ও আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশে মালিক, ভোক্তা, পাওনাদার, সরকার, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও উপরের স্তরের ব্যবস্থাপনার সকলের স্বার্থ রক্ষা করে মালিকের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন করাই হচ্ছে আর্থিক ব্যবস্থাপকের কাজ। তাই মুনাফা সর্বাধিকরণের উদ্দেশ্যকে একটি ফার্মের মূল, বাস্তব, যথোপযুক্ত ও মানবিক দিক থেকে সঠিক লক্ষ্য বলা যায় না। নিচে আরো কয়েকটি য...

মুনাফা সর্বাধিকরণ কেন ফার্মের লক্ষ্য হওয়া উচিত (Rationale Behind Profit Maximization as The Goal of a Firm)

ছবি
নিম্নোক্ত তিনটি কারণে মুনাফা সর্বাধিকরণকে কোম্পানির লক্ষ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। (ক) মুনাফা দক্ষতায় মাপকাঠি : আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুনাফা সর্বাধিকরণ কোম্পানির উদ্দেশ্যের মাপকাঠি বা নির্দেশক হিসেবে খুবই সহজ। মুনাফা একটা অর্থনীতির অর্থনৈতিক দক্ষতার পরিমাপক হিসেবে কাজ করে। (খ) সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার : অর্থনৈতিক সম্পদের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমেই মুনাফা সর্বাধিকরণ সম্ভব। অর্থাৎ মুনাফা সর্বাধিকরণ হলে অর্থনৈতিক সম্পদের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। (গ) সামাজিক কল্যাণ : মুনাফা সর্বাধিকরণের মাধ্যমে সঠিক সামাজিক কল্যাণ সম্ভব। বিনিয়োগকারী পায় মুনাফা এবং ভোক্তা পায় সন্তোষজনক দামে তার প্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সেবা। অন্যান্য অর্থনৈতিক সম্পদ ও সুষ্ঠুভাবে ব্যবহৃত হয় যা নঠিক সামাজিক কল্যাণেরই লক্ষ্য। এ কারণেই এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, মুনাফা সর্বাধিকরণ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্তের মূল মাপকাঠি।

মুনাফা সর্বাধিকরণ (Profit Maximization)

ছবি
কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাধারণত সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বা সেবা উৎপাদন করে তা বিতরণের মাধ্যমে সমাজের প্রয়োজন মেটায়। এ প্রক্রিয়ার পেছনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মালিকদের জন্য মুনাফা অর্জন এবং তা সর্বাধিকরণ (Maximization) করা।  মুনাফা সর্বাধিকরণের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আর্থিক ব্যবস্থাপক ওই ফার্মের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, অর্থায়ন সিদ্ধান্ত ও লভ্যাংশ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। পরিকল্পিত অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে দ্রব্যাদি বা সেবা প্রদান করা। কিন্তু বাজার অর্থনীতিতে অর্থাৎ, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সমাজের সদস্যদের জন্য স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের দ্রব্যাদি বা সেবা প্রদান করে মুনাফা অর্জন বা মুনাফা সর্বাধিকরণ বর্তমান আধুনিক ব্যবসা জগতে লাভার্জন ক্ষমতাকে একটি কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা হয়। এই দিক দিয়ে বিবেচনা করে মুনাফা সর্বাধিকরণ তখনই হবে যখন কোনো সম্পত্তি বা প্রকল্পে বিনিয়োগ করে সর্বাধিক অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতার মাধ্যমে কোম্পানির মালিকদের সর্বাধিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন সম্ভব। লাভজনক অনেক প্রকল্পের মধ্য থেকে সবচেয...

অবণ্টিত মুনাফা ও সঞ্চিতি তহবিল (Retained Earnings and Reserve Fund)

ছবি
নিট মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কারবারে বিনিয়োগ করা হয়, তা অবণ্টিত মুনাফা।  ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করার জন্য এই অবণ্টিত মুনাফা একটি তহবিলে আলাদা করে রাখলে তাকে বলা হয় সঞ্চিতি তহবিল। আবার ভবিষ্যতের কোনো আর্থিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যও এই সঞ্চিতি তহবিল সৃষ্টি করা যায়।

আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন সিদ্ধান্ত (Income or Financing Decision)

ছবি
আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন আয় সিদ্ধান্ত বলতে মূলত তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বুঝায়।  a অর্থায়ন সিদ্ধান্তের আওতায় তহবিল সংগ্রহের ভিন্ন উৎস নির্বাচন এবং এসব উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে অর্থায়ন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সাধারণত চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য স্বল্পমেয়াদি উৎস থেকে আর স্থায়ী ব্যয় নির্বাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত ব্যবসায় তহবিল সংগ্রহে মালিকপক্ষের নিজস্ব পুঁজি ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বড় কোম্পানিগুলো শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এই শেয়ারহোল্ডাররাই কোম্পানির মালিক। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণের মাধ্যমে তহবিলের যে অংশ সংগ্রহ করে, তার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ঋণের দায় বৃদ্ধি পায়, আবার মালিকপক্ষ হতে সংগৃহীত মূলধনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে মালিকপক্ষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সঠিক অর্থায়ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠান ঋণের দায় ও মালিকানা স্বত্বের মধ্যে লাভজনক ভারসাম্য সৃষ্টিতে সফল হয়।

ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত (Investment Decision)

ছবি
একজন আর্থিক ব্যবস্থাপককে যে সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হচ্ছে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, কোন কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে কোম্পানির উদ্দেশ্য অর্জনে সুবিধা হবে তা নির্ধারণ করা। সেজন্য প্রয়োজন হবে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আর বা মুনাফা পরিমাপ করা। যেহেতু প্রকল্প হতে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয় অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করতে হয়, সেহেতু সেখানে রয়েছে অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি। তাই কোনো বিনিয়োগ প্রকল্প মূল্যায়নে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয় ও ঝুঁকি বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।