তারল্য বনাম মুনাফানীতি (Principles of Liquidity and Profitability)
যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমেই মুনাফা অর্জন করা হয়। অর্থাৎ মূলধন বিনিয়োগ না করে বা কমিয়ে তারল্য বৃদ্ধি করা সম্ভব, তবে তাতে লাভের পরিমাণ কম হবে। আবার সমুদয় মূলধন বিনিয়োগ করলে তারল্য কমে যাবে। তাই এহেন পরিস্থিতিতে আর্থিক নির্বাহীগণ ব্যবসার তারল্য ও লাভ অর্জন ক্ষমতার মধ্যে সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে সম্পদের ব্যবস্থাপনা করে থাকে। এই তারল্যের সাথে ব্যবসার অর্জিত মুনাফার সম্পর্ক পরস্পরবিরোধী। তাই কাম্য পরিমাণ তারল্য ব্যবসায়ে অবশ্যই রাখতে হবে; অন্যথায় ব্যবসার চলতি দায় পরিশোধে অসুবিধা হবে। এমতাবস্থায় ব্যবসার তারল্য ও লাভ অর্জন ক্ষমতার মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় অবশ্যই প্রয়োজন।
যেমন: একজন দোকানি তার প্রতিদিনের বিক্রয়লব্ধ নগদ আয় (তরল সম্পদ) সম্পূর্ণটাই কাঁচামাল ক্রয় ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয়ের কথা চিন্তা করে নিজের কাছে রেখে দিতে পারে অথবা সেই নগদ অর্থের কিছু অংশ কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য রেখে বাকিটা কোনো ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখতে পারে, যা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু সুদ/মুনাফা পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে দোকানিকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, নগদ অর্থ কী পরিমাণ নিজের কাছে রাখলে দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটানো সম্ভব। যদি নগদ অর্থ বেশি পরিমাণে দোকানি নিজের কাছে রেখে দেয়, তাতে ব্যাংক থেকে প্রাপ্য আয়ের পরিমাণ কমে যাবে। আবার ব্যাংকে বেশি পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে ব্যবসার দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের ঘাটতি হবে, যা ব্যবসার সুষ্ঠু পরিচালনাকে ব্যাহত করবে। ফলে ব্যবসায়ীকে তারল্য ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রেখে আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে। অর্থাৎ একদিকে তাকে যেমন দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার মতো নগদ অর্থ হাতে রাখা প্রয়োজন, অন্যদিকে মুনাফা অর্জনের জন্য সেই অর্থ বিনিয়োগ করাও প্রয়োজন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন